জাহালম কাণ্ড: সোনালী ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তা জড়িত

22

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
পাটকল শ্রমিক জাহালমের বিনা অপরাধে কারাভোগের ঘটনায় ৮ কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে সোনালী ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি। আর জালিয়াতি মূলে ছিলেন ব্যাংকের কর্মকর্তা আমিনুল হক।

শনিবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে এ দায় স্বীকার করেছে সোনালী ব্যাংক।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে গত ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত শুনানিতে সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন জানিয়েছিলেন তারা হলফনামা আকারে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হলো। আগামী ২৮ আগস্ট দুপুর দুইটায় এ বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

ওইদিন আদালত জাহালমের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমরা এ প্রতিবেদন গ্রহণ করছি না। দুদকের কোন ১১ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে তাদের নামের তালিকা জমা দেন।

সোনালী ব্যাংকের প্রতিবেদনটি ৪১৬ পৃষ্ঠার। এত বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বেতন কেটে রাখা, তিরস্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি দৈনিকে ‘৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে’ ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন গত ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত হলে তা আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৪ সালে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। এরপর সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়।

নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক জাহালম তখন দুদকে গিয়ে বলেন, তিনি আবু সালেক নন, সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও তার নয়। কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেদিন জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করে দুদক।

এ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ৩০ জানুয়ারি স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ বিনা অপরাধে জাহালমের কারাভোগের ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চারজনের ব্যাখ্যা চান আদালত। পরে আদালতের নির্দেশে গত ৬ ফেব্রুয়ারি সাড়ে তিন বছর কারাভোগের পর মুক্ত হন জাহালম।

গত ২৭ জুন আদালত জাহালমের ঘটনায় দুদকের দায় আছে কিনা, তা অনুসন্ধানে গঠিত দুদকের আভ্যন্তরীণ কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। এখন এ বিষয়ে শুনানি চলছে হাইকোর্টে।