মোজাফফর আহমদের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

16

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
বাংলাদেশের প্রবীণতম রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মরদেহের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানালেন সর্বস্তরের মানুষ।

শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মোজাফফর আহমদের মরদেহ আনা হয়। এ সময় তার আত্মীয়-পরিজন ও গুণগ্রাহীসহ সর্বস্তরের জনগণ ফুল দিয়ে তার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোজাফফর আহমদের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। এ সময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদের) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদশের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি সভাপতি আ.স.ম আব্দুর রব, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শিক্ষাবিদ মমতাজ রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষে সভাপতি আয়েশা খানম, সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান আনসারী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাবেক ছাত্রনেতা সুভাস সিংহ রায়, মুকুল চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অনেক নেতারা মোজাফফর আহমদের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

মোজাফফর আহমদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ একজন জাতীয় নেতা। উনি সমাজতন্ত্রের আজীবন একনিষ্ঠ একজন সাধক ছিলেন। আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও উনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জাতীয় প্রশ্নে একসঙ্গে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সমগ্র উন্নয়নেই উনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।’

ইনু আরও বলেন, ‘ওনার সবচেয়ে বড় গুণ ছিলো আদর্শের প্রশ্নে উনি কোনো আপস করেননি। তিনি আপসহীন ছিলেন উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে, সামপ্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আজকের প্রজন্ম যদি তার কাছ থেকে কিছু শিখতে চায় সেই শেখাটা হচ্ছে যে নৈতিকতার ওপরে দাঁড়ানো, আদর্শের ওপরে দাঁড়ানো এবং দলবাজি-ক্ষমতাবাজি থেকে দূরে থাকা এবং লেজুড়বৃত্তির মনোভাব পরিত্যাগ করা। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ রাজনীতিতে আমাদের একজন অভিভাবক ছিলেন। ওনার শূন্যতা পূরণ করা যাবে না।’

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমানসহ অনেক শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে একই বিভাগে ১৯৫২ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ গতকাল শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত সাতটা ৪০ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

শনিবার সকাল ১১টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা এবং পরে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাদ যোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদে মোজাফফর আহমদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২৫ আগস্ট) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা নিজ গ্রামে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের দাফন সম্পন্ন হবে।

শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘অধ্যাপক মোজাফফর আহমদরা যখন রাজনীতিতে এসেছিলেন ওনাদের একটি কমিটমেন্ট ছিল। তাদের রাজনীতির একটি আদর্শ ছিল এবং নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন ছিল। তারা রাজনীতিকে পণ্যে রূপান্তরিত করেননি। সেই রাজনীতি এখন বিরল।’

দিলীপ বড়ুয়া আরও বলেন, ‘এখন আমরা যদি সত্যিকারভাবে গণমানুষের রাজনীতি করতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাতের রাজনীতির আদর্শের কমিটমেন্টের ওপর দৃঢ় থাকতে হবে। আমাদের কমিটমেন্টটা আপসহীন হতে হবে। তাহলে ওনার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও ওনার আদর্শ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া হবে।’