কুষ্টিয়ায় সাব রেজিস্ট্রার হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

12

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার নূর মোহম্মদ শাহকে হত্যার ঘটনায় ৪ আসামিকে ফাঁসি ও অপর একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খোকসা মাঠপাড়া এলাকার আলী শেখের ছেলে ও নিহত নূর মোহাম্মদের পিয়ন ফারুক হোসেন (৩৮), কুমারখালী উপজেলার গাট্টিয়া গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে ও রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ সাইদুল ইসলাম (৩৭), কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকার গোলাম কিবরিয়ার ছেলে ও মিরপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়ন কামাল শেখ (৪০) এবং কুমারখালীর বানিয়াপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মশিউল আলম (৪০)।

অন্যদিকে, নূর মোহম্মদ হত্যা মামলায় কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক মনোয়ার হোসেন ডাবলুকে (৩৮) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নূর মোহাম্মদের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তিনি কুষ্টিয়া শহরের বাবর আলী রেলগেট এলাকায় বিসি স্ট্রিট সড়কের হানিফ আলীর বাড়ির তিন তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর রাতে ওই বাসায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূর মোহম্মদ শাহকে হাত-পা বেঁধে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে আসামিরা। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন ৯ অক্টোবর দুপুরে নিহতের ছোট ভাই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ২১ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আজ মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, রায়ের পর নূর মোহাম্মদের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিন বছর আদালতে মামলার কার্যক্রম শেষে ৪ আসামিকে ফাঁসি ও এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী জানান, সরকারি দপ্তরে কর্মরতরা প্রভাবশালী মহলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতে গিয়ে নিজেদের সহকর্মীকে হত্যা করেছেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় বিচারক এই রায় দিয়েছেন।