নিবন্ধিত বনাম অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

15
Print Friendly, PDF & Email

শামীমুল হক, ফেসবুক থেকে:
সব কিছুরই একটা নিয়ম থাকা উচিত। আর সে নিয়মানুযায়ী চলবে সবকিছু। এ জন্যই দেশে আইন রয়েছে। কারও কাছে সে আইন হতে পারে বিতর্কিত। কিংবা আইনের অপব্যবহারও হয় অনেক ক্ষেত্রে। তারপরও আইন মানুষকে একটি নিয়মের মধ্যে বেঁধে রাখে।

দেশে বেশকিছু দিন ধরে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। নিবন্ধিত নিউজ পোর্টালগুলো সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়মের মধ্যে চলছে। কিন্তু অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালগুলোতে নিয়মের বালাই নেই। তারা যা ইচ্ছে তা লিখে দিচ্ছে। তাছাড়া রাজধানীসহ জেলা-উপজেলায় এমন শত শত নিউজ পোর্টাল সাংবাদিকের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রকৃত সাংবাদিকতার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

গত ৫ই মে সংবেদনশীল সংবাদসহ যেকোনো খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য ‘নৈতিক নীতিমালা’ প্রণয়ন চেয়ে সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে এ নোটিশ প্রেরণ করা হয়। তবে সে নোটিশের কোনো জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী জারিন রহমান ও রাশিদা চৌধুরী নীলু।

রিট আবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি রাজধানীতে ২১ বছরের এক মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দণ্ডবিধি আইনের ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করা হয়। এ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে অগ্রহণযোগ্যভাবে নিউজ পরিবেশন করা হয়েছে। অথচ এসব সংবাদ পরিবেশনা বন্ধে বিটিআরসি কিংবা প্রেস কাউন্সিল কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে দেশে অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালগুলো চালু থাকার পরও বিটিআরসি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাই এসব পোর্টালের রেজিস্ট্রেশনও জরুরি।

এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার অনিবন্ধিত সব নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে সাত দিনের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের ঐতিহাসিক এ রায়ে সন্তুষ্ট প্রকৃত সাংবাদিকরা।

সরকারের কাছে আবেদন যেসব অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল পেশাগত নিয়ম মেনে চালানো হচ্ছে তাদের নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ দেয়া হউক। এ জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি করা যেতে পারে। যে কমিটি যাচাই বাছাই শেষে তাদের মতামত দেবে। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

ওদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সাত দিনের মধ্যে অনিবন্ধিত সব অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ না করে কী প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন দেয়া হচ্ছে তা আদালতকে জানানো হবে। তিনি বলেন, সাত দিনের মধ্যে অনিবন্ধিত সব অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করা সমীচীন হবে না। আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক।