বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাঃ সম্পাদক হলেন কুষ্টিয়ার আলোকিত সংগঠক মতিউর রহমান লাল্টু

35
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী আদর্শের দুর্দিনের অকুতোভয় সংগঠক, কুষ্টিয়া জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টু বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত কমিটিতে তাঁকে এই পদে মনোনীত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির পুনরায় সভাপতি হয়েছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা, আওয়ামী লীগের প্রবীণতম নেতাদের অন্যতম, সাবেক সাংসদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডা. এস এ মালেক এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক।

মতিউর রহমান লাল্টু কুষ্টিয়ার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সুদীর্ঘ পরিচিত নাম। একই সাথে তিনি একজন সফল ক্রীড়া সংগঠক। সাংবাদিকতা অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর দৃপ্ত পদচারণা। কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ায় জন্ম নেয়া মতিউর রহমান লাল্টু জেলায় ব্যাপক জননন্দিত একজন বর্ষিয়ান ব্যক্তিত্ব। আজীবন সমাজ হিতৈষী মানুষ মতিউর রহমান লাল্টু শিক্ষা জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স বিষয়ে মার্স্টাস ডিগ্রীধারী। লেখাপড়া শেষ করে চাকুরীর দিকে যতটা আগ্রহ ছিল তার চেয়ে বেশী ছিল সমাজকর্মের প্রতি। শিক্ষা জীবনের পালা চুকিয়ে চলে আসেন কুষ্টিয়ায়। জড়িয়ে পড়েন সামাজিক কর্মকান্ডে। দীর্ঘ এই সামাজিক কর্মে মতিউর রহমান লাল্টু দায়িত্ব পালন করেন একাধিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে। একই সাথে গড়ে তোলেন অসংখ্য সংগঠন।

মতিউর রহমান লাল্টু দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি দৈনিক খবরের কুষ্টিয়া জেলা সংবদাদাতা ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি জেলা ক্রীড়া লেখক সমিতির সভাপতি ও বর্তমানে কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ত্রিশ বছরের পুরোন দৈনিক কুষ্টিয়া’র উপদেষ্টা সম্পাদক।

এছাড়া তিনি জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্য জোটের সভাপতি, জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত মতিউর রহমান লাল্টু বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত, আওয়ামী আদর্শের একনিষ্ঠ সৈনিক মতিউর রহমান লাল্টুর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে নিজেকে সম্পৃক্তকরণ। আশির দশকে যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উচ্চারণ করতে বাধা পেতে হতো সেই সময়ে টগবগে তরুণ মতিউর রহমান লাল্টু দায়িত্ব নেন জেলায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ গড়ে তোলার। বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রবীণতম নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডা. এস এ মালেকের হাত ধরে তিনি জেলায় প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ। তিনি হন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। যখন স্বৈরাচারী এরশাদ শাসনামালে আওযামী লীগের কর্মকান্ড পরিচালনা দুরহ ছিল তখনও মতিউর রহমান লাল্টু বঙ্গবন্ধু পরিষদের ব্যানারে এই জেলায় আওয়ামী লীগের নানা কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন। এই ধারা অব্যাগত রাখেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও। এসব করতে গিয়ে বারবার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের রোষানলে পড়েছেন। জেল পর্যন্ত খেটেছেন।

সমাজ ও সংগঠনে লড়াকু সৈনিক মতিউর রহমান লাল্টু বর্তমানে কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতি (মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়বেটিকস হাসপাতাল) এর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি ও চক্ষু হাসপাতাল ঢাকা পরিচালনা পর্ষদ সদস্য।

মানব সেবা কার্যক্রমের স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি কয়েকবার লায়ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার, ঢাকাতে হাজী মোহাম্মদ মহসিন স্বর্ণ পদক ও ক্রীড়া লেখক সমিতির শ্রেষ্ঠ সংগঠকের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

ব্যাক্তিগত জীবনে স্ত্রী নিলুফার রহমান এ্যানী, এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। ছেলে তানভীর রহমান ও পুত্রবধূ নাইমা রহমান বুশরা। তাদের এক কন্যা তাসনিম। মেয়ে লাইলা জাহান ও জামাতা আলীমুজ্জামান বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি, ঢাকা ২য় বিভগ ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান, এজেড ইকেট্রিক এন্ড ইলেট্রনিক্স মার্কেটের সত্বাধীকারী ও দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি।

এদিকে, কৃতিসংগঠক মতিউর রহমান লাল্টু বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনসহ নানান ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানানো হয়েছে।