মেডিকেলছাত্র মেধাবী ইশাদের পাশে দাঁড়ালেন ভোলার জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী

90
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, ভোলা:
চিকিৎসা শাস্ত্রের শিক্ষাগ্রহণে মেডিকেল কলেজের বই ও সরঞ্জামাদি কেনার জন্য ভোলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেক দফা অর্থিক অনুদানের চেক সোমবার দুপুরে তুলে দেয়া হয় মেধাবী শিক্ষার্থী ইশাদ ইসলামের বাবার হাতে।

সুযোগ্য, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী মেডিকেল শিক্ষার্থী ইশাদের বাবা ইকবাল হোসেনের হাতে ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এর আগে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য তাকে আরও ২০ হাজার টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। দুই ধাপে মোট ৪০ হাজার টাকার অর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মামুন আল ফারুক, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

মেধাবী শিক্ষার্থী ইশাদ ইসলাম ভোলার লালমোহন উপজেলার ইকবাল হোসেনের ছেলে। তার বাবা লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন অফিস সহকারী। তার বাসা লালমোহন পৌর সভার ৫ নং ওয়ার্ডের নয়নি গ্রামে।

তিন ভাইবেনের মধ্যে মেজো ইশাদ। বাবার স্কুলের বেতনের টাকা দিয়েই পড়াশোনার খরচ চলে ইশাদের ভাইবোনদের। অল্প বেতন হওয়ায় অনেকটা আর্থিক দৈন্যতা চেপে বসলেও অদম্য মেধার কারণে এগিয়ে যান ইশাদ।

মাধ্যমিক পাস করেছে বাবার চাকরি করা প্রতিষ্ঠান লালমোহন মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে। আর এইচএসসি পাশ করেছে ভোলা সরকারি কলেজ থেকে। কলেজে পড়া অবস্থায় ইশাদের স্বপ্ন ছিলো ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। সেভাবেই প্রস্তুতি নেন তিনি। কিন্তু ইশাদ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ১৮২৮ তম হয়ে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অর্থ সংকটে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল মেধাবী এই শিক্ষার্থীর।

ইশাদ জানান, মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার আগে বাবার পক্ষে ভর্তির টাকা দেয়া সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। একপর্যায়ে বাবার মাধ্যমে ভোলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী স্যার সেই অন্ধকার দূর করে দিলেন। মেডিকেলে ভর্তির জন্য সকল দায়িত্ব তিনি নিলেন। এ জন্য জেলা প্রশাসকে পরম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

ভোলার জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী জানান, আমরা যখন শুনলাম আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে মেধাবী ইশাদ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারছেন না। তখন আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পাশে দাড়াঁনোর চেষ্টা করলাম।

তিনি আরও বলেন, কোনো মেধাবী মুখ অর্থের অভাবে যেনো ঝরে না পড়ে। শিক্ষা প্রসার ও উন্নয়নসহ যে কোনো মানবিক সহায়তা প্রদানে ভোলা জেলা প্রশাসন প্রস্তুত আছে এবং আগামীতেও থাকবে বলে মন্তব্য করেন তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী।