তামিম যে কারণে বিশ্বকাপে খেলবেন না

7
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস ডেস্ক:
বাংলাদেশের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। গত ৮/১০ বছর ধরে সব ফরম্যাটে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সাফল্যের অন্যতম স্বার্থক রূপকারও বাঁ-হাতি এ ওপেনার। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক লাইভে এসে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

তামিম বলেন, ছোট্ট একটা ঘোষণা ছিল। আমি কিছুক্ষণ আগে বোর্ড সভাপতি পাপন ভাই ও প্রধান নির্বাচক নান্নু ভাইকে ফোন করেছিলাম। ফোন করে কিছু জিনিস শেয়ার করেছি। যেটা আপনাদের সঙ্গেও শেয়ার করতে চাই। আমি উনাদের বলেছি যে, আমার মনে হয় না, বিশ্বকাপ দলে আমার থাকা উচিত। সরাসরি বললে বিশ্বকাপ দলে আমি থাকছি না।

এদিকে, নিজের এমন সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলোও ব্যাখ্যা করেন তামিম। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বড় একটা কারণ, বেশ কয়েকদিন ধরে খেলছি না এ ফরম্যাটে। দ্বিতীয়ত, ইনজুরি। যদিও ইনজুরি আমার মনে হয় না অত বড় সমস্যা। কারণ আমি আশা করি যে বিশ্বকাপের আগেই ঠিক হয়ে যাব। গত দেড়বছর ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নেই বিশ্বসেরা এ ক্রিকেটার।

তিনি বলেন, কঠিন এ সিদ্ধান্ত নিতে আমার কাছে যে বিষয়টি মুখ্য মনে হয়েছে, যেহেতু সর্বশেষ ১৫-১৬ টি-টোয়েন্টি খেলিনি এবং আমার জায়গায় যারা খেলছিল, আমার মনে হয় না, এটা কোনোভাবে ফেয়ার হবে তাদের প্রতি, যদি আমি হঠাৎ করে এসে ওদের জায়গাটা নিয়ে নেই।

বিশ্বকাপ দলে তাকে রাখা হতো বলে ধারণা করছিলেন তামিম। কিন্তু সেটা ঠিক হতো বলে তিনি মনে করছেন না। তামিম বলেন, হয়তোবা আমি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতাম। আমি মনে হচ্ছে, হয়তো বা থাকতাম। তবে মনে হয় না, সেটি ঠিক হতো।

তবে এদিন তিনি আরও একটি বিষয় খোলাসা করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে না খেলা মানে এ সংস্করণকে বিদায় নয়। পরিষ্কার করে বলি, আমি অবসর নিচ্ছি না। কিন্তু এ বিশ্বকাপে আমার খেলা হবে না। আমার মনে হয়, তরুণ যারা ওপেন করছেন, বিশ্বকাপে ওদের সুযোগ পাওয়া উচিত। কারণ, ওরা গত ১৫-১৬ ম্যাচ ধরে নিয়মিত খেলছে। ওদের প্রস্তুতি হয়তো আমার চেয়ে ভালো থাকবে। সঙ্গে এটাও মনে করি, তারা হয়তো দলকে আমার চেয়ে ভালো সার্ভিস দিতে পারবে।

এছাড়া সংবাদমাধ্যমকে তিনি অনুরোধ করেন, এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তার ‘প্রাইভেসি’ বজায় রাখতে। আর জানান, মনের ডাক শুনেই এ পথে এগিয়েছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং স্তম্ভের এমন কথা মানতে নারাজ বেশিরভাগ ভক্ত সমর্থকই। লাইভ পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে বেশিরভাগ কমেন্টই ছিল তামিম কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তা জানতে চেয়ে। এছাড়া অনেকেই বলছেন, হয়তো অভিমান করেই এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এর আগে একটি মহল তার টি-টোয়েন্টি খেলার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তেমনি তামিমকে নিয়ে আপাতত ভাবতে নারাজ ছিলেন টাইগারদের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তামিমের না থাকায় শূন্যতাও অনুভব করছেন না তিনি। গত সোমবার (৩০ আগস্ট) সরাসরি সে কথা বলেও ফেলেন তিনি।

ডমিঙ্গো বলেছিলেন, স্কোয়াডে এখন যে ১৯ ক্রিকেটার আছে, আমার যত মনোযোগ তাদের দিকেই। তামিম যখন ফিট হয়ে উঠবে, তখন তার কথা ভাবা যাবে। সত্যি বলতে আমি তার কথা খুব বেশি ভাবছিও না।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=401483224674706&id=100044390949198