চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার মরদেহ নেই, সব জেনেও বিএনপি নাটক করছে: হানিফ

57
Print Friendly, PDF & Email

ঋত্বিক তারিক, ঢাকা:
দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিএনপি আবারও রাজপথে নামার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।

তিনি হুসিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, রাজপথে নামলে অতীতের ন্যায় জনগণই তাদের প্রতিহত করবে।

৪৬তম জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চন্দ্রিমা উদ্যানে কবরে জিয়াউর রহমানের মরদেহ নেই, সব জেনেও দলটি নাটক করছে বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা ছিল। জিয়া তার সকল কাজের মাধ্যমে প্রমাণ রেখে গেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন। গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিভিন্ন দূর্তাবাসে চাকরি দিয়ে পূর্ণবাসিত করেন। এসবের মাধ্যমে প্রমাণ হয় জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন।

যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব, হত্যার সাথে যারা জড়িত ছিল, যারা ষড়যন্ত্রকারী তাদের চেহারাটা উন্মোচিত হওয়া দরকার বলে মনে করেন মাহবুবউল আলম হানিফ। কুশীলবদের ভূমিকা জাতির জানা উচিত, ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হওয়া উচিত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, আপনারা অনেক মিথ্যাচার করেছেন। ১৯৭৫ সালের পরে আপনারা জয় বাংলা শ্লোগান দিতে দেন নাই, কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন জিয়া, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে হানাদার বাহিনী বলা যাবে নাসহ আরও নানাভাবে জনগণের অধিকারকে লুণ্ঠন করেছেন।

হানিফ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে যাচ্ছিলো, ঠিক সেই সময় ৭১ এর পরাজিত শক্তি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আর এই হত্যায় জিয়াউর রহমানও জড়িত। জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ছদ্মবেশী পাকিস্তানের এজেন্ট।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশ শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১৯ বার হামলা চালানো হয়। আল্লাহর আশেষ রহমতে তিনি এখনও সুস্থভাবে বেঁচে আছেন। এছাড়াও বিএনপি জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের ২৪ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি।’

অনুষ্ঠান শেষে করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় কয়েক হাজার নারী-পুরুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন অতিথবৃন্দ।