বিএনপি এখন জয়নুলের শিল্পকর্ম ‘সেই গরুর গাড়ি’র মতো স্থির: কাদের

21
Print Friendly, PDF & Email

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
বিএনপি এখন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘কাদায় আটকে যাওয়া সেই গরুর গাড়ি’র মতো স্থির বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আপনাদের দেখলে মনে হয় শিল্পী জয়নুলের বিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘কাদায় আটকে যাওয়া গরুর গাড়ি’র মতো। সেই গরুর মতো বিএনপিও আটকে আছে রাজনীতির কাদায়। এই কাদা থেকে বের হতে হলে আপনাদের রাজনীতির সংস্কৃতি পাল্টাতে হবে। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব, নির্বাচিত হয়েও আপনি আপনার আসন শূন্য করে দিলেন, পার্টি তো শূন্য হবেই।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকালে ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এই সভার আয়োজন করে।

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে আপনারা বলেন রাজনীতিকে আওয়ামী লীগ শূন্য করতে চায়। হত্যা, ষড়যন্ত্র ও লুটপাটের রাজনীতির মধ্যদিয়ে বিএনপিই রাজনীতিকে শূন্য করতে চেয়েছিল। আমরা কি তা ভুলে গেছি? বাংলাদেশের মানুষ কি ভুলে গেছে সেই হামলার কথা, হাওয়া ভবনের লুটপাট, দুর্নীতিতে ৫ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হওয়ার কথা। নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করতে করতে আজকে আপনারা ভুলের চোরাবালিতে এসে নিজেরাই নিজেদের শূন্য করে দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ আপনাদের শূন্য করতে চায় না। ৫ বার দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করে আবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন একটুও লজ্জা করে না? লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছেন।’

মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা দেশের ৬৩ জেলায় যে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলা এরও পৃষ্টপোষক ছিলেন আপনারা। অনেক কিছু ভুলে গিয়েছিলাম, বিএনপি ভুলতে দেবে না। ২১ আগস্ট ও ১৫ আগস্টের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরও বঙ্গবন্ধুর কন্যা গিয়েছিলেন শোকাহত মাকে সান্তনা দিতে। মনে আছে, সেদিন ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার মুখের সামনে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার নেপথ্যে আপনারা, শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মঞ্চে আপনারা। তারপরও জনগণের স্বার্থে শেখ হাসিনা গণভবনে বেগম জিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, আপনারা আসেননি। অশ্রাব্য ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে গালি-গালাজ করেছিলেন। আমরা তো ভুলে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের মানুষ কি ভুলে গেছে? জানতে চাই মির্জা ফখরুল সাহেব। এ প্রশ্নের জবাব কোনদিন আপনি দিতে পারবেন না, বার বার এ প্রশ্নের জবাব চেয়েছি, দিতে পারেননি। যদি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে আপনাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি জানতে চাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কারা নিরাপদে বিদেশে যেতে সাহায্য করেছিল, অনুমতি দিয়েছিল। জবাব দেবেন। জিয়াউর রহমান এই খুনিদের বিদেশে যেতে দিয়েছিলেন এই সত্যকে অস্বীকার করতে পারবেন। মির্জা ফখরুল সাহেব এসব প্রশ্নের জবাব আপনি কোনদিনও দেননি, জানি কোনদিনও দিতে পারবেন না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন বলেন বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করতে পারেননি, এটা তাদের দুর্ভাগ্য। দেউলিয়া হয়ে গেছে ওই দল। এ ধরনের বক্তব্য তারাই দিতে পারে, যাদের রাজনীতি ভুলের চোরাবালিতে আটকে পরেছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘এখনও ষড়যন্ত্র চলছে? এখনও বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ আছে। রক্তের গন্ধ আমরা পেয়েছি বার বার, আমরা জানি তাদের প্রাইম টার্গেট এখনও বঙ্গবন্ধুর কন্যা, যিনি দেশে-বিদেশে সমাদৃত, প্রশংসিত, জনপ্রিয়, জননন্দিত নেতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। গত ৪৪ বছরে শেখ হাসিনার মত দক্ষ, সফল ও সৎ নেতা বাংলাদেশে আসেনি। আর শেখ হাসিনার প্রশংসা শুনলে আপনাদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়।’

বক্তব্যকালে ওবায়দুল কাদের নিজ দলের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন। কাদের বলেন, আর কয়েক মাস পর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। শেখ হাসিনা জোর করে নির্বাচনে জিততে চান না। আমরা জনগণকে খুশি করে, জনগণের রায় নিয়ে নির্বাচিত হতে চাই। ক্ষমতায় আছেন বলেই যদি আপনরা ভাবেন, আমি তো জিতেই যাব, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আপনাদের জনগণের মন জয় করেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে।

দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সমাবেশের অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘সংগ্রাম’।ক্যানভাসে তেলরং (১৯৭৬)। বাংলাপিডিয়া থেকে নেয়া

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত সেই শিল্পকর্মের নাম ‘সংগ্রাম’। নারায়গঞ্জের সোনারগাঁও লোক শিল্প জাদুঘরে শিল্পকর্মটি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হচ্ছে।