সতত প্রেরণাদায়ী “বঙ্গমাতা“ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব

78
Print Friendly, PDF & Email

কর্নেল (অব:) কাজী শরীফ উদ্দিন:
৮ আগস্ট ২০২১ রবিবার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, মহিয়সী নারী, বাঙালির সকল লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন, ‘‘বিশ্বে যা কিছু চির সুন্দর, কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”। বেগম মুজিবের জীবনী বিশ্লেষণে আমরা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতার যথার্থ প্রতিফলন দেখতে পাই। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী হিসেবে নয়, একজন নীরব দক্ষ সংগঠক হিসেবে যিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং বঙ্গবন্ধুকে হিমালয় সমআসনে অধিষ্ঠিত করেছেন তিনি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

সতত প্রেরণাদায়ী বঙ্গমাতা, বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পুরুষ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ পর্যায়ে যে মহীয়সী নারী, প্রেরণাদায়ী হিসেবে সর্বদায় ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর আজীবনের সহযোগিতায় ছিলেন তিনিই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। চেতনায় বাঙালিত্বকে ধারণ করে, বঙ্গবন্ধুকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে তার অনন্য অবদান। তিনি সাধারণ নারী নন, বরং বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘজীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে শক্ত হাতে হাল ধরেছেন নিজ পরিবারের, সেইসাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী মুক্তিকামী বাংলার আপামর জনসাধারণের পাশে ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী মত, তার মাতৃস্নেহ হয়ে উঠেছিল বাঙালির আশ্রয়স্থল।

শেখ মুজিবুর রহমানের জাতির পিতা হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যে নারীর, তিনি তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তিনি জীবনভর বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। সংসারের দায়িত্ব তিনি একাই সামনে নিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু নিশ্চিন্তে মন দিয়েছেন দেশের কাজে।

বায়ান্ন সালের একুশে ফেব্রুয়ারি, আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল হক তার স্ত্রী ছিলেন ইংরেজি বিষয়ের অধ্যাপক, অথচ বাঙালির ভাষা আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর অবহেলার কারণে হারিয়ে গেলেন ইতিহাসের পাতা থেকে।

তেপ্পান্ন সালে যুগ্ন সচিব টগবগে যুবক শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কালের বিবর্তনে সেই শেখ মুজিবকে যিনি জাতির পিতা বানিয়েছিলেন, ছায়ার মত সারাজীবন ছিলেন পাশে যুগিয়েছেন অনুপ্রেরণা বানিয়েছেন জাতির পিতা তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গমাতা ছিলেন মনেপ্রাণে একজন আদর্শ নারী। বিচক্ষণ উপদেষ্টা ও পরামর্শকারী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আদর্শ ভাবি।

পিতা জহুরুল হক, মাতা হোসনে আরা বেগমের কন্যা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ডাক নাম রেনু। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবাকে এবং পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান রেনু, তারপর থেকে বঙ্গবন্ধুর মায়ের কাছে তিনি বড় হন।

লেখাপড়ার শুরুটা পরিবার এবং গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে পড়ালেখা করলেও পরবর্তীতে ঘরে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যানI অত্যন্ত প্রখর স্মৃতিশক্তি বুদ্ধিমত্তা অসীম ধৈর্য ও সাহস নিয়ে তিনি যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারতেন। স্বামী শেখ মুজিব যখন কলকাতায় থাকতেন, পড়ালেখা করতেন তিনি তখন সময় কাটাতেন নানারকম বই পড়ে, তিনি একজন সঙ্গীত প্রিয় ছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “অসমাপ্ত আত্মজীবনী”তে লেখা সংসার, রাজনীতি এবং কর্মজীবনের বর্ণনায় বারবার স্ত্রী বেগম মুজিবের নাম উচ্চারণ করেছেনI

বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণীর নাম নয়, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম এক নেপথ্য অনুপ্রেরণা দাত্রীI তার ট্যাগ ও সংগ্রামের কথা খুঁজে পাওয়া যায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্ব ইতিহাসেও- তাইতো তিনি শুধু “রেণু থেকে বঙ্গমাতা” এ পরিণত অনুকরণ ও অনুসরণ ইতিহাসের এক আদর্শ নারী। বঙ্গমাতা ছিলেন মনেপ্রাণে একজন আদর্শ নারী, বিচক্ষণ উপদেষ্টা ও পরামর্শকারী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণার উৎস্য।

দেশের অনেক, এমনকি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নেতারা বেগম মুজিবের কাছে আসতেন দেখা করতে, পরামর্শ নিতে, নির্দেশনা জানতে। আইয়ুব খান ভুট্টোকে মন্ত্রিত্ব থেকে বের করে দিলে সে-ও ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাসায় ছুটে আসে। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা এলে পর্দার আড়াল থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেন বেগম মুজিব। কখনোই সামনে আসতেন না। ছেলে-মেয়েদের বলতেন, ‘ওদের সাথে তো আর আমরা থাকব না, কেন দেখা করব? ওদের চেহারাও আমার দেখতে ইচ্ছা করে না।’ বঙ্গবন্ধু এমএনএ, এমপি-মন্ত্রী থাকাকালে অনেকবার করাচি গেছেন। বেগম মুজিব একবারের জন্যও তাঁর সঙ্গী হন নাই। কখনো যেতে চাইতেন না। সবার আগে তিনিই বুঝেছিলেন এ দেশ স্বাধীন হয়ে যাবে। তাঁর মধ্যে এই চেতনা অত্যন্ত তীব্র ছিল এবং বিশ্বাসও ছিল।

শক্তিমান রাজনীতিবিদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এক বক্তৃতায় বঙ্গভবনে বলেছিলেন মহাত্মা গান্ধীর স্ত্রী কস্তুরবা, জহরলাল নেহেরুর স্ত্রী কমলা এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী বাসন্তী দেবীর সাথে তুলনা করতে গিয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে “বঙ্গমাতা” অভিধায় ভূষিত করেন।

১৯৬৬ সালে ছয় দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রথম তিন মাসে আটবার গ্রেপ্তার হন। পাকিস্তান সরকার ৮ মে বঙ্গবন্ধুকে আবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করে। ৭ জুন ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট সফলভাবে পালনে বেগম মুজিবের ভূমিকা ছিল অন্যতম। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি লুকিয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তাঁদের ছোট ফুফুর ফ্ল্যাট বাসায় চলে যেতেন। ওখানে গিয়ে নিজের স্যান্ডেল বদলাতেন, কাপড় বদলে, বোরকা পরে একটা স্কুটার ভাড়া করে ঢাকায় পড়ুয়া ছোট ভাইকে নিয়ে ছাত্রনেতা আর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। আন্দোলন চালাবে কিভাবে তার পরামর্শ, নির্দেশনা তিনি নিজেই দিতেন। আবার ওই বাসায় ফিরে এসে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নিজের বাসায় ফিরতেন। বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে এই ধর্মঘট যাতে পালিত হয় এবং চলমান আন্দোলনের সফলতার জন্য তিনি নিরলস কাজ করে যেতেন। সবই করতেন গোপনে এবং রাজনৈতিক মেধায়।

আগরতলা মামলা নিষ্পত্তির জন্য আইয়ুব খান লাহোরে গোলটেবিল বৈঠক ডাকে। প্রস্তাব দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে ছাড়া হবে প্যারোলে। বেগম মুজিব স্বামীর কাছে খবর পাঠালেন যেন তাঁর সঙ্গে পরামর্শ না করে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত না নেন। জানালেন দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে। মামলা তুলে বঙ্গবন্ধুসহ বন্দি ৩৫ জনের সবাইকে মুক্তি দিলেই গোলটেবিল বৈঠক হতে পারে, অন্যথা একা যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে যে দূরদর্শিতা তিনি সেদিন দেখিয়ে ছিলেন তা পরবর্তী সময়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথের নির্দেশনা দিয়েছিল।

দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ কৃত নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিজস্ব পারিবারিক জীবন নাই বললেই চলে। তাদের সাথে সহযোগিতা ও সংসার করা খুবই কঠিন এবং দুরহ ব্যাপার, কিন্তু ব্যতিক্রমী ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। অন্যদিকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র খ্যাত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিল দুই স্ত্রী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের ছিল তিন স্ত্রী, আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ছিল তিন স্ত্রী, কেহই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মত স্বামীর অনুপস্থিতিতে পুরা সংসারকে আগলে রাখতে পারেন নাই।

ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধুকে বারবার জেলে যেতে হয়েছিল, সেই কারারুদ্ধ দিনগুলোতে রেনু যোগ্য সহধর্মিনীর দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে শেখ মুজিবের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছা গুরুত্বপূর্ণতথ্য বৃদ্ধিতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বেগবান হয়। গুগোল আন্দোলন ও গণবিরোধী গণবিক্ষোভের ফলে শেখ মুজিবুর রহমান মুগ্ধ হলেন ২২ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ পরের দিন ২৩ শে ফেব্রুয়ারি বাঙালিরা তাদের অবিসংবাদিত নেতাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে বরণ করে নেয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টি মাস অসীম সাহসিকতা দৃঢ় মনোবল নিয়ে রেনু পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছিলেন। হাজার ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ২৩ মার্চের পতাকা উত্তোলন বঙ্গবন্ধুর প্রধান উদ্দীপক ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন এই বঙ্গমাতা রেনু। নেপথ্যে থেকে উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে এবং ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। বন্দি থেকেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার চোখ এড়িয়ে দলের নেতাদের নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন। বেশ কয়েকবার গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ ও শাস্তি-নির্যাতনের হুমকি দেয়, তবু তিনি ছিলেন অকুতোভয়। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে ও বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়ান তিনি।

শেখ মুজিবুর রহমানের জাতির পিতা হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যে মহীয়সী নারীর তিনি তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। আজ আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব তিনি সারাটা জীবন ভর বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে ছিলেন। সংসারের সকল দায়িত্ব তিনি একাই সামনে দিয়েছেন শেখ মুজিব নিশ্চিন্তে মন দিয়েছে দেশ গড়ার কাজে রাজনীতিতে জনসেবায়। এই মহীয়সী নারী ছিলেন বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতির পিতার একজন যোগ্য বিশ্বস্ত সহচর। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একই স্বপ্ন দেখতেন তাইতো তিনি শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেনু নন আমাদের ”বঙ্গমাতা“।

১০ জানুয়ারি ১৯৭২ এর রাতে একাকিত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে তিনি বলেছিলেন ”তুমি ফিরে এসেছো সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ, আমি উল্লসিত কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত ধূসর প্রান্তরে, ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রাম, ক্ষুধার্ত শিশু বিবস্ত্র নারী আর হতাশাগ্রস্ত পুরুষ এবং সন্তানহারা জনক-জননী তোমার প্রতীক্ষায়। শত কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিজ হাতে রান্না করে খাইয়েছেন ভাসানীসহ দেশ-বিদেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের যা সম্পূর্ণ ইতিহাস, আদর্শ বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি।

এমনও দিন গেছে মামলা চালাতে গিয়ে তাঁর কাগজপত্র, উকিল জোগাড় করতে অনেক খরচ হয়ে গেছে। এদিকে বাজারও করতে পারেননি। কোনো দিন বলেননি যে টাকা নাই, বাজার করতে পারলাম না। চাল-ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেছেন। আচার দিয়ে ছেলে-মেয়েদের বলেছেন যে প্রতিদিন ভাত-মাছ খেতে ভালো লাগে নাকি। আসো, আজকে আমরা গরিব খিচুড়ি খাই, এটা খেতে খুব মজা। একজন মানুষ, তাঁর চরিত্র কতটা সুদৃঢ় থাকলে যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা ধারণ করতে পারেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে পদে পদে তিনি আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গেছেন। প্রকাশ্যে প্রচারে কখনোই আসেননি।

বঙ্গমাতা কতোটা দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ছিলেন সেটি বোঝা যায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস আম্মার যে মনোবল দেখেছি, তা ছিল কল্পনাতীত। স্বামীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে গেছে। দুই ছেলে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছে। তিন সন্তানসহ তিনি গৃহবন্দি। যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন কিন্তু আম্মা মনোবল হারাননি।’

কোটি বাঙালির স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হোক বঙ্গমাতা, প্রত্যেকে বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায় ধ্রুব তারার মতন জ্বলজ্বলে বঙ্গজননীর বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদান। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গমাতা থাকবেন আমাদের অস্তিত্বে। জাতির পিতাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে এগিয়ে নেওয়া এই মহিয়সী জননীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। হে বঙ্গমাতা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি তোমার জন্মদিনে। শুভ জন্মদিন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

লেখক: কলামিস্ট ও পরিচালক, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর।