‘তারুণ্যের জেগে ওঠার নাম শেখ কামাল: তরুন প্রজন্মের অহংকার, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক

48
Print Friendly, PDF & Email

কর্নেল (অব:) কাজী শরীফ উদ্দিন:
আজ ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের ৭২ তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এইদিনে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁকেও ঘাতকেরা হত্যা করে।

শেখ কামাল-একজন ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ও শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং অভিনয় শিল্পী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক ছিলেন। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর এইড ডি ক্যাম্প (এডিসি) হিসেবে কাজ করেন।

শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ অনার্স পাস করেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শেখ কামাল। তিনি ‘ছায়ানট’-এর সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। মঞ্চ নাটক আন্দোলনের ছিলেন প্রথমসারির সংগঠক। বন্ধু শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী’। শেখ কামাল ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনয় শিল্পী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
১৯৬৯-র গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা পালন করেন শেখ কামাল। তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশনন্ড লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন। শাহাদাত বরণের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

শেখ কামাল আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা। তার হাতে ১৯৭২ সালে গড়া দেশের প্রথম আধুনিক ক্লাব আবাহনী লিমিটেড। আকাশি-হলুদ জার্সিধারীরা এখন দেশ ও দেশের বাইরে দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন। এছাড়া তারই দেখানো পথ ধরে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলায় আন্তর্জাতিকভাবে আছে সাফল্য।

মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী শেখ কামাল শুধু ক্রীড়াতেই সাফল্য আনেননি, তিনি ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন অনুরাগী শিক্ষার্থী। ছিলেন ছায়ানটের ছাত্র। ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদের কাছে ধানমন্ডির বাড়িতে তালিম নিলেও পিয়ানোর প্রতিও তাঁর দারুণ আগ্রহ ছিল। তাঁর তিন তলার ঘরে ছিল বাদ্যযন্ত্রের সমাহার। সাত সকালে তালিমের পর তিনি তাঁর প্রিয় নীল টয়োটায় ছুটতেন শংকরের আবাহনী ক্লাবে, আর ধানমন্ডির আবাহনীর প্র্যাকটিস ফিল্ডে।

শেখ কামাল ছিলেন প্রাণবন্ত আর অমায়িক ব্যবহারের এক যুবক। ছোট-বড় সবার সঙ্গে তিনি ছিলেন ঈর্ষণীয় ব্যবহারের অধিকারী একজন মানুষ। সহপাঠী থেকে শিক্ষক-সম্মান করতেন সবাইকে। ছিল না কোনো দাম্ভিকতা। ছিল না প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্টের পুত্রসুলভ কোনো অহমিকা। নিজে একজন ক্রীড়াবিদ হিসেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ খ্যাত ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামাল খুকী ভাবিকে পছন্দ করতেন কামাল ভাই। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সাথে তার বিয়ে হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁকেও ঘাতকেরা হত্যা করে।

শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) পাস করেন। তিনি ছায়ানটের সেতারবাদন বিভাগেরও ছাত্র ছিলেন। বন্ধু শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী। ব্যক্তিজীবনে শেখ কামাল শিল্প-সংস্কৃতির পাশাপাশি ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় উৎসাহী ছিলেন। তিনি ছিলেন আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামালের হাত ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ভিত্তি তৈরি হয়। শেখ কামালকে একাধারে ক্রীড়াবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক, তরুণ রাজনীতিক হিসেবে ইতিহাসে আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শেখ কামাল অপরাজিতই থাকবেনI শহীদ শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী। ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা, , রাজনীতিবিদ, ক্রীড়া সংগঠক ‘তারুণ্যের জেগে ওঠার নাম শেখ কামাল। সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি তোমার জন্মদিন।

লেখক: কলামিস্ট ও পরিচালক, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর।