ক্রিকেটের মোড়ল অস্ট্রেলিয়ার দম্ভ চূর্ণ করে টাইগারদের দ্বিতীয় জয়

39
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস ডেস্ক:
ক্রিকেটের মোড়লসম দেশ অস্ট্রেলিয়া। যাদের বিপক্ষে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতে এই সিরিজের আগে চারবারের সাক্ষাতে একটিও জয় ছিল না। তবে এসব পরিসংখ্যান এখন কেবলই ইতিহাস। কারণ মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্যাঙ্গারু বাহিনীর বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুটিতেই জয় পেয়েছে বাংলার দামাল ছেলেরা।

বাংলাদেশ ঘরের মাঠে যে কত কঠিন প্রতিপক্ষ, আবারও ক্ষতবিক্ষত হয়ে বুঝল অস্ট্রেলিয়া। টানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অজিদের নাকাল করে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। বুধবার (৪ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেট আর ৮ বল হাতে রেখে হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। তাতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিক দল এগিয়ে গেছে ২-০তে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখকে হারায় বাংলাদেশ। আউট হওয়ার আগে নাঈম ১৩ বলে ৯ রান করতে পারলেও শূন্য রানেই আউট হন সৌম্য। কিন্তু তারপরই দলের বিপর্যয় কাটিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান। কিন্তু সাকিবও বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। ১৭ বলে ২৬ রানের মহামূল্যবান ইনিংস খেলে এন্ডু টাইয়ের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন এই অলরাউন্ডার। এর আগে যদিও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। সাকিবের পর রিভিউ নিয়ে রক্ষা পান আফিফ হোসাইনও।

এদিকে, প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ দলীয় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৪ বল খেলে কোনো রান না করেই অ্যাশটন অ্যাগারের বলে বোল্ড হন তিনি। অ্যাগারের টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে শরীর থেকে দূরে ব্যাট চালান রিয়াদ। বল ডেকে এনেছেন স্টাম্পে। টাইগার্স ক্যাপ্টেনের পর অ্যাডাম জাম্পার বলে পরাস্ত হয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফিরে যান মেহেদী হাসানও। জাম্পার বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে হাঁকাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ক্রিজে ফেরার আগেই স্টাম্পিংয়ের কাজটা সেরে ফেলেন ম্যাথু ওয়েড। মেহেদী ফিরেছেন ব্যক্তিগত ২৩ রান করে।

৯ রানের ব্যবধানে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ-মেহেদী আউট হয়ে যাওয়ার পর নুরুল-আফিফ জুটি বেঁধে দলকে জয়ের বন্দরে নোঙর করেন। এই দুই তরুণের পঞ্চাশোর্ধ রানের ব্যাটিং দৃঢ়তায় জয় পায় বাংলাদেশ। ৩১ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন আফিফ, নুরুল করেছেন ২১ বলে ২২ রান।

এর আগে বল হাতে মেহেদী, মুস্তাফিজ, সাকিব, শরীফুলরা দারুণ শুরু পান। পুরো ২০ ওভার খেলে সর্বনিম্ন স্কোর সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। মাঝে মিচেল মার্শ ও মোয়েজেস হেনরিকেসের জুটি একটু আশা জুগিয়েছিল তাদের। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক থ্রু পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টির মত দ্বিতীয় ম্যাচেও দাপুটে বোলিং করল টাইগার বোলাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয় ৭ উইকেটে ১২১ রানে।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে মেহেদী হাসান এরপর মুস্তাফিজ ব্রেক থ্রু এন দেন বাংলাদেশকে। ৩১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে শুভ সূচনা করেন স্পিনার মেহেদী হাসান। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি অজিদের। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন মেহেদী। এই স্পিনারের বলে নাসুম আহমেদকে ক্যাচ দিয়ে ১১ রান করে ফিরে গেছেন ক্যারি।

মেহেদী হাসানের পর ব্রেক থ্রু এনে দেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। অজি ওপেনার জশ ফিলিপেকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। ১৪ বলে ১০ রান করে ফিরে যান তিনি। লেগস্টাম্পের বাইরে কাটার ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের, বলের লাইন না বুঝেই ব্যাট চালিয়েছিলেন ফিলিপে। তাতেই বিদায় ঘণ্টা বাজে তার।

তবে মিচেল মার্শ ও মোয়েজেস হেনরিকেস জুটি গড়ে এগিয়ে নিতে থাকেন দলকে। দু‌’জন মিলে অর্ধশত রানের জুটি গড়েন। তবে এই জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। তার ঘূর্ণীতে পরাস্ত হয়ে ফিরে গেছেন হেনরিকেস। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২৫ বলে ৩০ রান।

অন্যদের ব্যর্থতার দিনে ব্যাট হাতে কিছুটা উজ্জ্বল ছিলেন মিচেল মার্শ। তবে তাকে ফিরিয়ে স্বস্তি এন দেন শরীফুল। অসময়ে মার্শকে হারিয়ে আরও চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। ৪২ বলে ৪৫ রান করে ফিরে যান তিনি।

অজি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডও ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাট হাতে। মুস্তাফিজকে সামলাতেই যেন হিমশিম অবস্থা। কাটার মাস্টারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। ৭ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন তিনি। এর পরের বলে আবারও আঘাত হানেন এই পেসার। এবার তার শিকার অ্যাশটন অ্যাগার। ধরা পড়েন মুস্তাফিজের বাড়তি বাউন্সে। অ্যাগারের গ্লাভসে লেগে উইকেটকিপার নুরুলের ক্যাচে পরিণত তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ নিয়েছেন ৩টি উইকেট। এছাড়া শরীফুল ২টি এবং সাকিব ও মেহেদী নেন ১টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
অস্ট্রেলিয়া:
২০ ওভারে ১২১/৭ ( ফিলিপি ১০, ক্যারি ১১, মার্শ ৪৫, ম্যাথু ওয়েড ৪, হেনরিকেস ৪০, মিচেল স্টার্ক ১৩, অ্যাশটন টার্নার ৩, অ্যান্ড্রু টাই ৩; সাকিব ৪-০-২২-১, মেহেদী ৩-০-১২-১, নাসুম ৪-০-২৯-০, শরিফুল ৪-০-২৭-২, মুস্তাফিজ ৪-০-২৩-৩)।

বাংলাদেশ: ১৮.৪ ওভারে ১২৩/৫ (নাঈম ৯, সৌম্য ০, সাকিব ২৬, মেহেদী ২৩, নুরুল ২২, আফিফ ৩৭, মাহমুদউল্লাহ ০ ; হেইজেলউড ৩.৪-০-২১-১, স্টার্ক ৩-০-২৮-১, অ্যাগার ৪-০-১৭-১, জাম্পা ৪-০-২৪ -১, টাই ২-০-১৭-১, মার্শ ১-০-৬-০)।

ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।