রোববার থেকে খোলা রপ্তানিমুখী শিল্পসহ গার্মেন্টস

17
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
তৈরি পোশাক কারখানাসহ সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানাকে করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বগতি রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী রোববার থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে তৈরি পোশাক কারখানাসহ সব ধরনের রপ্তানিমুখী কলকারখানা।

আজ শুক্রবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় শাখার উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে রোববার সকাল ৬টা থেকেই এসব কারখানা উৎপাদনে যেতে পারবে।

নভেল করোনা ভাইরাসের ঊর্ধগতি রোধে গত ২৩ জুলাই থেকে দেশব্যাপী সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলছে। আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত এ লকডাউন চলবে। এর মধ্যেই পোশাকশিল্পসহ সব ধরনের শিল্প কল-কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ী নেতারা। কিন্তু সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সেই দাবি অনুমোদন পায়নি।

সবশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী নেতারা মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কারখানা খুলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে এসে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা সব ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ক্যাবিনেট সচিবের সঙ্গে দেখা করেছি। চলমান এ লকডাউনের মধ্যে যেন সব ধরনের শিল্পকে কাজ করতে সুযোগ দেওয়া হয়। আমরা ওনার কাছে এই অনুরোধ জানিয়েছি। দেশের অর্থনীতি বাণিজ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে অনুরোধে সাড়া দেবেন বলে আমরা আশা করি।’

সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে উনার মাধ্যমে এই অনুরোধটা আমরা করেছি। সচিব মহোদয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। কথা বলে এই ডিসিশানটা খুব তাড়াতাড়ি দেবেন।’

এর মধ্যেই আজ বিকেলে রপ্তানিমুখী কারাখানা খুলে দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। যদিও আজ দুপুরেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম জানিয়েছেন, তাঁরা করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে ৫ আগস্টের পর আরও অন্তত ১০ দিন কঠোর লকডাউন বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। অবস্থা খুবই খারাপ হতে পারে। এ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিধিনিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি জানান, আরও ১০ দিন আগেই কেবিনেট মিটিংয়ে বিধিনিষেধ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।