ব্লু জোনস্ ডায়েট (Blue Zones Diet)

52
Print Friendly, PDF & Email

অশোক কুমার দেবনাথ, ফেসবুক থেকে:
দীর্ঘ নীরোগ জীবন পেতে জাপানে বিশেষ ধরনের ’ডায়েট’ খাওয়া হয়। এ ধরনের খাওয়ার প্রচলন জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে। এ ডায়েটের মূল বিষয় হলো- ৪ ধরনের খাবার সব সময় খাওয়া (Four to always) অর্থাৎ খোসাযুক্ত দানা জাতীয় খাবার, বাদাম, সীমের বিচি, ফল-মূল ও শাক-সবজি এবং ৪ ধরনের খাবার সর্বদা পরিহার করা (Four to avoid)। অর্থাৎ চিনিযুক্ত পানীয়, লবন, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও মাংস। এর সাথে সারা দিন হাঁটা-চলা এবং পেট খালি না হলে আবার না খাওয়া।

আমাদের দেশেও প্রাচীনকালে এ ধরনের খাওয়ার প্রচলন ছিলো– জীর্ণে ভোজনং অর্থাৎ পুরোপুরি হজম না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় আহার না করা, মাংস পরিহার করা, নিয়মিত হাঁটা চলা করা-প্রাচীনকালে আমাদের দেশে এসব অভ্যাস করা হত।

জাপানের ওকিনাওয়া এলাকায় এ ধরনের খাবারের প্রচলন হলেও এখন অনেক জাপানী এ ধরনের খাবারে অভ্যস্থ হচ্ছে। ওকিনাওয়া এলাকার উল্লেখযোগ‌ সংখ্যক শতবর্ষী সুস্থ-সবল লোক বসবাস করে।

ব্লু জোনস্ ডায়েট খাওয়ার পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধবের সাথে নিয়মিত আড্ডা দিতে হবে। জাপানীরা মনে করে একাকীত্ব ও সমাজ বিচ্ছিন্নতা মৃত্যু ত্বরান্বিত করে। জাপানে অবশ্যম্ভাবী বার্ধক্য মোকাবিলায় বাস্তব পরিকল্পনা আছে। ৭০-৮০ বছর বয়সে আপনি কোথায়, কিভাবে কার সংগে বসবাস করবেন তার বাস্তব পরিকল্পনা যুবা বয়স থেকেই করা হয়, সরকারেরও পরিকল্পনা আছে। এখানে বৃদ্ধদের ডাক্তার [Geriatric doctor (Geriatrician)] এর সংখ্যা অনেক বেশী, যেটা অনেক দেশে সংখ্যায় নগন্য।

এশিয়া’র অনেক দেশে এ ধরনের ধারনা প্রচলিত আছে যে সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করলে বৃদ্ধ বয়সে তাদের উপর নির্ভরশীল থাকা যাবে। কিন্ত আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয় না। ফলে আমাদের বার্ধক্য প্রায়শই স্বস্তিদায়ক হয়না।

লেখকঃ অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।