মহামারিতে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ

19
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
মহামারি করোনাকালে ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে শিক্ষাজীবন। আর এর বেশি প্রভাব পড়েছে গ্রামের মেয়েদের ওপর। এই সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনেক মেয়েকেই বয়সের আগে বসতে হচ্ছে বিয়ের পিড়িতে। এতে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব, হারিয়ে যাচ্ছে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবার স্বপ্ন।

মেয়েটির ছদ্ম নাম শবনম। নবম শ্রেণিতে মেয়েটি লেখাপড়া করে সে। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবার ইচ্ছা থাকলেও চরম বাস্তবতার কারণে বয়স হবার আগেই তাকে বসতে হয়েছে বিয়ের পিঁড়িতে।

শবনমের বসবাস কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়ার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে। পরিবারে আছে বাবা-মা আর এক ভাই। বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রী। কিন্তু করোনায় কঠোর বিধিনিষেধে কর্মহীন হয়ে বসে আছেন বাড়িতে। ফলে নেই উপার্জনের পথ। ফলাফল, অল্প বয়সে অন্যের ঘরনী মেয়েটি।

একই চিত্র মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার এক গ্রামেও। করোনাকালের এই সংকটে উপার্জন কমে যাওয়ায় স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে বাল্য বিবাহের সংখ্যা। আর সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মহামারিতে অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেবার মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

ব্রাকের পরিসংখ্যান বলছে, এ বছরের শুরুতে বাল্যবিবাহের তথ্য আছে ২৮৯টি। যা গত বছরের চেয়ে ঢের বেশি। বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক উদ্যোগ শিথিল হবার কারণে বেড়েছে এই হার।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দেড় বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা এবং দরিদ্রের সংখ্যা বাড়ায়, শিক্ষাজীবন ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে গ্রামীণ কিশোরিদের।