যেমন চলছে কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন

11
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন চলছে। সকালের বৃষ্টি আর কঠোর বিধিনিষেধে রাজধানীর রাস্তা-ঘাট প্রায় ফাঁকাই দেখা গেছে। রাস্তায় যানবাহন একেবারে নেই বললেই চলে। তবে প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্সসহ দেখা গেছে ছোট ছোট কিছু যানবাহন।

বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দেখা গেছে পুলিশের চেকপোস্ট। কেউ অযথা বের হলে করতে হচ্ছে জবাবদিহিতা। সঠিক জবাব দেওয়ার পরেই ছাড় পাচ্ছেন অনেকে।

বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে সেনাববাহিনীর টহল। এবারের বিধিনিষেধে প্রশাসন গতবারের চেয়েও কঠোর থাকবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘অফিস-আদালত, গার্মেন্টস-কলকারখানা ও রপ্তানিমুখী সব কিছুই বন্ধ থাকবে। এটা এ যাবতকালের সর্বাত্মক কঠোর বিধিনিষেধ হতে যাচ্ছে। এ সময় মানুষের বাইরে আসার প্রয়োজনই হবে না। কারণ অফিসে যাওয়ার বিষয় নেই। যারা গ্রামে গেছেন, তারা জানেন যে অফিস বন্ধ। তাদের ৫ তারিখের পরে আসতে হবে।’

এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিধিনিষেধের মধ্যে ফেরিতে যাত্রীবাহী সকল ধরনের যান পরিবহন বন্ধ থাকবে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র জরুরি পণ্যবাহী যান ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপার করা হবে।

তবে কঠোর বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে কোরবানির পশুর চামড়া সংশ্লিষ্ট খাত, খাদ্যপণ্য এবং কোভিড-১৯ প্রতিরোধে পণ্য ও ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান।

এর পাশাপাশি রোববার থেকে সীমিত পরিসরে চলবে ব্যাংকিং কার্যক্রম। সেই সঙ্গে খোলা থাকবে বীমা কোম্পানির কার্যালয় ও শেয়ারবাজার।

রোববার থেকে ব্যাংকে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত। আর বীমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

কঠোর বিধিনিষেধের শর্তগুলো হলো- সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) এবং সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। শপিংমল, মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। সব প্রকার শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

এদিকে, কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন ৪০৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অহেতুক ঘোরাফেরা করায় রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০৩ জনকে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৭০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ৪৪১টি গাড়ির ১০লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।

১৪ দিনের এ কঠোর বিধিনিষেধ চলবে আগামী ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত।