হানিফই আওয়ামী লীগে আলোচনার শীর্ষে

941
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
মাহবুবউল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গত কাউন্সিলে দলের প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তারা দুইজনই ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন। আর সে কারণেই তাদেরকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো মনে করে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান এখন প্রেসিডিয়ামের সদস্য অথচ এর আগে মাহবুবউল আলম হানিফের সঙ্গেই তারা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মাহবুবউল আলম হানিফ দুইবার কুষ্টিয়া-৩ সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন। তারপরও তিনি এখন পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব পাননি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তিনি এমপি ছিলেন না। এরকম একটি প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের মধ্যে মাহবুবউল আলম হানিফকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে আগামীতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুবউল আলম হানিফকেই ভাবা হচ্ছে। তিনিও করোনাকালের কঠিন সময়ে ঝুঁকি নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা এবং সাংগঠনিক তৎপরতাকে জোড়ালো করেছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, করছেন। আর এ জন্য ইতোমধ্যেই তিনি করোনা পজিটিভও হয়েছেন। এরপরেও এতোটুকুন দমেনি তার রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক তৎপরতা।

মাহবুবউল আলম হানিফকে নিয়ে আলোচনার প্রধান কারণ হলো যে, যখন ওবায়দুল কাদের গুরুতর অসুস্থ হয়ে প্রথমে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং তারপর সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য যান সে সময় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুবউল আলম হানিফই দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এই দায়িত্ব পালনে তিনি যথেষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। বিনয়ী, মিষ্টভাষী এবং কর্মীবান্ধব হিসেবে মাহবুবউল আলম হানিফের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। আর এই কারণেই মনে করা হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের আগামী সাধারণ সম্পাদক হয়তো তিনি হতে যাচ্ছেন। যদিও এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। কবে কাউন্সিল হবে সেই সম্পর্কেও কেউ কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। তবে আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাই বিশ্বাস করেন যে, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এলেই আওয়ামী লীগ কাউন্সিলে যাবে। কাউন্সিলের জন্য আওয়ামী লীগ শুধু পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছে। কারণ আওয়ামী লীগের যে বর্তমানে সাংগঠনিক অবস্থা তা অনেকটাই বিশৃংখল হয়ে পড়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে ভেঙ্গে পড়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, দলের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে এখন অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৪২টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তারপরও সেই জেলাগুলোতে সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। শুধু এটুকুই নয় উপজেলা পর্যায়ে ৬৫০টি সংগঠনিক উপজেলা ও থানা কমিটি আছে আওয়ামী লীগের। এর মধ্যে ৪০০টির বেশি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বহু আগে। গত বছর কাউন্সিলের আগে এই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন করার কথা হলেও শেষ পর্যন্ত করা হয়নি। এখন করোনার কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থিমিত আছে। তাই সম্মেলনগুলো করা হচ্ছে না। কিন্তু এইসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি আওয়ামী লীগের জন্য এখন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। তৃণমূলের নেতারা যে যেভাবে পারছেন ফ্রিস্টাইলে কথাবার্তা বলছেন। এটি দলের জন্য একটা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনছে। সংগঠনিত বিশৃংখলা দেখা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রচুর বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুব কম সংখ্যক ক্ষেত্রেই ওই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। এরকম একটি নাজুক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন যে, দলে দ্রুত একটি কাউন্সিলের কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করছেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হতে পারে এবং সেখানে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন মুখ আসতে পারে। আর সেই নতুন মুখের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামটি হচ্ছে মাহবুবউল আলম হানিফ।