অকারণে যাতায়াত: রাজধানীতে চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না

10
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
কঠোর বিধিনিষেধে বদলে গেছে রাজধানীর চেহারা। সড়কে বেড়েছে ব্যক্তিগত পরিবহন আর ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, রাজপথ দখল করেছে রিকশা। তবে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে গুণতে হচ্ছে জরিমানা। বিপুল সংখ্যক মানুষ নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীকে।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যখন কঠোর বিধিনিষেধের বেড়াজালে গোটা দেশ তখন বদলে গেছে রাজধানীর চিত্র। সড়কে গণপরিবহন না থাকলেও বেড়েছে ব্যক্তিগত যানবাহন। মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন চলছে দেদারসে।

রাজধানীর প্রবেশ পথগুলোয় চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না অকারণে যাতায়াত। বেশিরভাগ মানুষ দিচ্ছেন নানা ধরনের অজুহাত।

যারা সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা জানান আইনি শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তারা।

রাজধানীর উত্তরা জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার তাপস কুমার দাশ বলেন, কে কোথায় যাবেন তা জানার চেষ্টা করছি। বেশির ভাগ মানুষ যৌক্তিক কারণে বের হয়ে এসেছেন। আর যে সব ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে অযৌক্তিক কারণ আছে তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি।

করোনা নিয়ন্ত্রণে শুধু মহাসড়ক নয় আবাসিক এলাকা, বাজার ও গলিতে তৎপর পুলিশ ও সেনাসদস্যরা।

১১ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর নার্গিস বলেন, জনগণের বাইরে আসার প্রবণতা একটু বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলকার নায়ন বলেন, অলিগলিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে আমরা টহল দেই। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে।

আইএসপিআরের পরিচালক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ বলেন, মানবিকভাবে কিছুটা বিবেচনা করতে হবে। এখানে শ্রমজীবী মানুষ আছেন, এখানে রিকশাওয়ালা আছেন তাদের জীবিকার একটা ব্যাপার আছে। আমরা সেই জিসিনগুলো মাথায় রেখে আমাদের ওপর যে নির্দেশনা আছে তা কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে।

এদিকে, করোনা সংক্রমণ রোধে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আগামী বুধবার মধ্যরাতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ১ জুলাই থেকে সাতদিনের কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের পক্ষ থেকে এবার বিধিনিষেধ ‘কঠোর’ই করার কথা বলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তার করার কথা বলে পুলিশও। বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করতে মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীও। এরপর ৫ জুলাই বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়।