কুষ্টিয়ায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে আরও ১৭ জনের মৃত্যু, নতুন সনাক্ত ২৩৪

14
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ার করোনা ডেডিকেটেড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন করোনায় এবং সাতজন উপসর্গে মারা গেছেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার।

এদিকে ৮০১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ৬৭ হাজার ৮৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৬৬ হাজার ১০৬ জনের।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ। নতুন করে শনাক্ত হওয়া ২৩৪ জনের মধ্যে কুষ্টিয়া সদরের ৯৬ জন, দৌলতপুরের ৪৭ জন, কুমারখালীর ৩৯ জন, ভেড়ামারার ১৭ জন, মিরপুরের ১৬ জন ও খোকসার ১৯ জন রয়েছেন।

বর্তমানে কুষ্টিয়ায় সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ১২৭ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২৫২ জন ও হোম আইসোলেশনে আছেন ২ হাজার ৮৭৫ জন।

এদিকে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কুষ্টিয়ায় চলমান লকডাউন আগামী ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

এতে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ায় চলমান লকডাউন আগামী ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। এ সময় ওষুধ, নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি দোকান, কাঁচাবাজার ছাড়া বাকি সবধরনের দোকান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে।

সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন কার্যকরে কুষ্টিয়ায় মাঠে নেমেছে প্রশাসন। র‍্যাব-পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জনসমাগম ঠেকাতে মাইকিং করে ঘরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করছে প্রশাসন। এই লকডাউন বাস্তবায়নে ছয়টি উপজেলায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন আছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম বলেন, কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পুলিশ মাঠে তৎপর রয়েছে। জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি করা হচ্ছে। সবার কাছ থেকে লকডাউন কার্যকর করতে সহযোগিতা পাচ্ছি।

সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। সব উপজেলায় হু হু করে বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। লকডাউনের মধ্যেও কেউ কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে রাস্তাঘাটে চলাচল করছেন। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। ফলে লকডাউনের সুফল মিলছে না।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে মাঠে নেমে কাজ করা হচ্ছে। আমি নিজেও বিভিন্নস্থানে ঘুরে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া বিধিনিষেধ প্রতিপালনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা লকডাউন কার্যকর করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।