কুষ্টিয়ার প্রাকৃতিক পদ্ধতির ‘ব্ল্যাক কাউ’র দাম ২০ লাখ

11
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
কালো রঙয়ের কারণে গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘ব্ল্যাক কাউ’। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য কোরবানির হাটে তোলা হবে ব্ল্যাক কাউকে।

তবে গরুটির মালিক আমিরুল মেম্বার মনে করছেন, হাটে তোলার আগেই বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে ব্ল্যাক কাউ বিক্রি হবে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের আমিরুল মেম্বার ভালোবেসে গরুটির নাম রেখেছেন ‘ব্ল্যাক কাউ’। তিনি গরুটি দাম হাঁকিয়েছেন ২০ লাখ টাকা। দুই বছর আগে গরুটি কেনেন তিনি। কোনো রকম কীটনাশক বা ক্ষতিকর ভিটামিন ছাড়াই শুধু গমের ছাল ও খড়-বিচালি দিয়ে পারিবারিকভাবে গরুটিকে মোটাতাজা করেন বলে জানান তিনি।

গরুটির পেছেনে প্রতিদিন অল্প অল্প করে বিনিয়গ করেছেন এর মালিক; তার আশা কোরবানির ঈদে গরুটি বিক্রি করে একবারে মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়া ও সঙ্গে কিছু লাভ করা। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে গত কোরবানির ঈদে সঠিক দাম না পাওয়ায় গরুটি বিক্রি করতে পারেননি তিনি।

বর্তমান সময়ে করোনার চরম উর্দ্ধগতির প্রভাবে সারা দেশেই একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গরুর সব রকম খাদ্যের দামে। এমন অবস্থায় গরুটি বাজারে নিতে পারবেন কিনা, বাজারে নিলেও ক্রেতা মিলবে কিনা, ক্রেতা মিললেও দাম পাওয়া যাবে কিনা এসব নানা বিষয় নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে আমিরুল মেম্বার। তবে আসছে কোরবানির ঈদে যেভাবেই হোক- বাড়ি থেকে অথবা অনলাইনের মাধ্যমে গরুটি বিক্রি করতে চান তিনি।

আমিরুল মেম্বর বলেন, গত দুই বছর ধরে গরুটি আমি ও আমার পরিবারের সবাই সন্তানের মতো করে লালন-পালন করেছি। গরুটির খাবার বাবদ প্রতিদিন খরচ হয় ৮০০ টাকা।

তিনি আরও জানান, গত বছর আট লাখ টাকা দাম উঠেছিল ব্ল্যাক কাউয়ের। বর্তমানে ব্ল্যাক কাউটি আরও বড় হয়েছে। এতে প্রায় ৩২ মণ মাংস হবে। ব্ল্যাক কাউকে আমি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চাই।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ জেলায় কীটনাশক বা ক্ষতিকর কিছু ছাড়াই মাঠের ঘাস ও স্বাভাবিক খাবার খাওয়ায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কুষ্টিয়ার খামারিরা গরু লালন পালন করেন। সে কারণেই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কুষ্টিয়ার গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।