হীরা, সোনা, কোল্টান, তামা আর কোবাল্টের হাট

65
Print Friendly, PDF & Email

অশোক কুমার দেবনাথ, ফেসবুক থেকে:
ডি আর কঙ্গো’র পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে গোমা বুনিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় (রোয়ান্ডা ও উগান্ডা সীমান্তবর্তী) সোনা, হীরা, কোল্টান, কোবাল্ট, তামা প্রভৃতি মূল্যবান ধাতুর খনি রয়েছে।

’কোল্টান’ হ’ল খুবই মূল্যবান একটা ধাতু যা মোবাইল ফোনের মাইক্রো চিপস্ তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। পৃথিবীর খুব কম দেশেই কোল্টানের খনি রয়েছে।

এত মূল্যবান খনিজ সম্পদ থাকার পরও কঙ্গো পৃথিবীর অন্যতম একটা গরীব দেশ। এটা হতে পারত পৃথিবীর অন্যতম একটা ধনী দেশ। মাটির নীচ খনিজ সম্পদে ভরপুর। কতগুলো খনি আছে তার যথাযথ পরিসংখ্যান নেই। এমনও শোনা যায় শান্তিরক্ষী বাহিনী’র ক্যাম্প স্থাপনকালে মাটি খোড়ার সময় মূল্যবান সব খনিজ ধাতু পাওয়া গিয়েছে। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল পুরোটাই খনিজ সম্পদে ভরপুর। কিন্তু সাধারণ জনগন প্রচন্ড গরীব; একেবারে পশুর ন্যায় জীবন যাপন করে। কাসাবার তৈরী আটার হালুয়া যা স্থানীয়ভাবে ‘ফুফু‘ নামে পরিচিত সেটাই তাদের প্রধান খাবার।তাও নিয়মিত খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

কঙ্গো’র পূর্বাঞ্চলের এসব খনির একটা উল্লেখযোগ্য অংশে কঙ্গো সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করে। আর যে মুষ্টিমেয় অংশ সরকার নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিদেশীদের সাথে মিশে ব্যাপক দুর্নীতি করে। এসব খনি থেকে রাতের বেলায় বিদ্রোহীরা নুড়ি-পাথরসহ মাটি উত্তোলন করে বস্তা ভর্তি করে সকাল বেলায় একটা নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ে আসে। বিদ্রোহীদের যথেষ্ট টেকনোলজি না থাকায় এরা এসব মাটি থেকে সোনা-হীরে-কোল্টান যথাযথভাবে আলাদা করতে পারে না। ফলে খনি থেকে নুড়ি পাথর ও বালু ভর্তি মাটি নিয়ে আসে।

এখানে সকাল বেলায় পার্শ্ববর্তী রোয়ান্ডা, উগান্ডা’র অসাধু ব্যবসায়ীরা আসে এবং নাম মাত্র মূল্যে এসব নুড়ি পাথর বা বালুর বস্তা কিনে নিয়ে যায়। এসব মাটিতে থাকে হীরা-সোনা- কোল্টানসহ মূল্যবান সব ধাতব পদার্থ। রুয়ান্ডা-উগান্ডাসহ পার্শবর্তী দেশের অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এসব ধাতব পদার্থ পৌঁছে যায় উন্নত দেশের ব্যবসায়ীদের হাতে। কঙ্গো’র খনিজ সম্পদ দিয়েই পার্শবর্তী দেশগুলো উন্নত হচ্ছে।

পৃথিবীতে যত তামা ব্যবহৃত হয় তার প্রায় ৮০% ই যায় কঙ্গোর এসব খনি থেকে বৈধ এবং অবৈধভাবে উত্তোলিত হয়ে। কঙ্গো’র প্রতিবেশী দেশ রোয়ান্ডায় কোন সোনার খনি না থাকা সত্বেও সেখানে সোনা পরীক্ষার পরীক্ষাগার গড়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই’র সোনার বাজারের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ কঙ্গো থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত সোনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

উগান্ডায় কোন হীরার খনি না থাকা সত্বেও উগান্ডা পৃথিবীর সব চেয়ে বেশী হীরা রপ্তানীকারক দেশ। অতএব কঙ্গো’তে যতদিন এসব খনি থাকবে ততদিন বিদেশী হস্তক্ষেপ থাকায় কঙ্গোয় কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। তবে এ সব খনি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে কঙ্গো হবে পৃথিবীর অন্যতম একটা ধনী দেশ।

লেখকঃ অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।