যিলহজ্ব মাসের তাৎপর্য ও ফযীলত

15
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
হজ্ব ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি। কুরবানী ইসলামের একটি ওয়াজিব আমল। উভয়টারই বিশাল ইতিহাস ও তাৎপর্য্য রয়েছে। আমি সে দিকে যাবো না। পবিত্র যিলহজ্ব মাসে হজ্ব ও কুরবানী ছাড়াও রাসূলে কারীম সা. আমাদেরকে আরো কিছু আমলের প্রতি উদ্ভুদ্ধ করে গিয়েছেন, যে আমলগুলো করে মুমিন নারী/পুরুষ, ধনী-গরীব সকল শ্রেনীর মানুষ নিজেকে ধন্য করে পরকালের পূঁজি সঞ্চয় করতে পারে।

এক: হযরত উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, যখন যিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখা যায় এবং কেহ স্বীয় কুরবানীর ইচ্ছা রাখে তো সে যেন তার চুল, নূখ না কাটে। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, খণ্ড-১ পৃষ্ঠা- ১২৭)।

এই হাদীসের আলোকে হযরাতে উলামায়েকেরাম বলেন, যে সব মুসলিম নর-নারী স্বীয় কুরবানী করার ইচ্ছা রাখে, তারা যেন তাদের হাত, পায়ের নখ এবং পুরুষগণ গোঁপসহ নারী ও পুরুষ উভয় মানব দেহের যেই যেই স্থানে চুল, পশম কাটার শরীআতের বিধান রয়েছে, সেগুলো যিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদয়ের আগে কেটে নেয়। এটি তাদের জন্য একটি সুন্নাত আমল, যিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদয় হওয়ার পর স্বীয় কুরবানীর পশু জবাই দেয়া পর্যন্ত নখ, চুল কাটা বন্ধ রাখে। তবে কোন ব্যক্তি যদি যিলহজ্বের চাঁদ উঠার পূর্বে না কাটে এবং কুরবানীর পশু জবাই করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে এগুলো কাটার মেয়াদ চল্লিশ দিন অতিক্রম হয়ে যায়, এমন ব্যক্তির জন্য জরুরী হলো চল্লিশ দিনের ভিতরে এগুলো কেঁটে পরিচন্ন হওয়া। তবে তিনি বৎসরের একটি সুন্নাত আমলের সাওয়াব থেকে নিজকে বঞ্চিত করলো। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরিয়্যা- খ-৫ পৃষ্ঠা- ৩৫৭-৩৫৮, আহসানুল ফাতাওয়া, খ-৬ পৃষ্ঠা- ৪৯৭)।

দুই: হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহ তা’আলার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহ রাসূল সা.! অন্য দিনগুলোতে আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় জিহাদও কি এ দশ দিনের নেক আমলের সমতুল্য হবে না?

উত্তরে হুজুর সা. বললেন না, তবে কোন ব্যক্তি যদি তার জান, মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয়ে নিজেও শহীদ হয়ে যায় এবং মাল শেষ করে ফেলে। (বোখারী, মিশকাত শরীফ খ-.১ পৃষ্ঠা .১২৭/১২৮)।

উল্লিখিত হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের আমল আল্লাহ তা’আলার নিকট কতখানি প্রিয় ও পছন্দনীয়।

একজন মুমিনের হৃদয়ের তামান্না তো সদা এটাই হওয়া উচিৎ যে, কিভাবে আমি আমার রবের নিকট প্রিয় হতে পারি। আর প্রিয় হতে হলে রবের কাছে যে আমলগুলো প্রিয়, সেগুলো নিজের জীবনে বাস্তাবায়ন করতে হবে, প্রিয় সময়গুলো খুজে খুজে নিজেকে এ সময় গুলোতে নেক আমল যেমন: বেশী বেশী কুরআন তেলাওয়াত, যিকর, তাসবীহ, তাহলীল, নফল নামাজ, নফল রোজা, দান খাইরাত সাধ্যানুসারে করতে হবে। অন্যায়, অপরাধ, মাওলার নাফরমানী ছাড়তে হবে।

যিলহজ্ব মাসের এই দিনগুলোতে বান্দার নেক আমল আল্লাহর কাছে কত প্রিয় তা নিম্নের হাদীস থেকে কিছুটা অনুমান করা যায়।

হযরত আবু হুরাইরা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, এক হাদীসে হুজুর আকরাম (সা.) ইরশাদ করেন, যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের একদিনের রোজা এক বৎসর রোজার সমতুল্য, এক রাতের ইবাদত বন্দেগী শবে ক্বদরের ইবাদত বন্দেগীর সমতুল্য। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত শরীফ- খ-১/১২৮)।

প্রিয় পাঠক! একটু লক্ষ্য করুন, আমাদের পরকালের সঞ্চয়ের জন্য এদিনগুলো কি পরিমাণ দামী, এদিনগুলো পাওয়া আল্লাহ তা’আলার কত বড় অনুগ্রহ। আল্লাহ আমাদেরকে এ দিনগুলোতে নিজেকে নেক আমলে লাগিয়ে আল্লাহর নিকট প্রিয় ও দামী হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।

তিন: মূলত উপরে যে ফযীলত ও তাৎপর্যের আলোচনা হয়েছে, তা যিলহজ্ব মাসের প্রথম আট দিনের। যিলহজ্ব মাসের নবম তারিখ যাকে “ইয়াওমে আরাফাহ” বলা হয়। এর তাৎপর্য্য বা ফযীলত হাদীসের আলোকে একটু অন্য রকম, একটু বেশী। হাফিয মুনযেরী রহ. বাইহাকী ও ত্ববরানীর বরাতে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আয়েশা রা. বলেন, নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, আরাফার দিনের রোজা যেন এক হাজার দিনের রোজা। (আততারগীব ওয়াততারহীব, খ-২ পৃষ্ঠা- ১২৯)।

হযরত আবু ক্বাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী কারীম সা. যিলহজ্বের নবম তারিখের রোজার ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমি আল্লাহ তা’আলার দরবারে আশাবাদি যে আরাফার দিনের রোজার বরকতে তিনি রোজাদারের পূর্বের এক বৎসরের গোনাহ ও পরবর্তী এক বৎসরের গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (মুসলিম শরীফ- ১/৩৬৭)।

উলামায়ে উম্মত কুরআন ও অন্যান্ন হাদীসের আলোকে বলেন এই হাদীস ৯ই যিলহজ্বের রোজার বিনিময়ে রোজাদারের আগে/পরে দুই বৎসরের গুনাহ মাফীর যেই কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে, এখানে গুনাহ দ্বারা গুনাহে ছগীরা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ গুনাহে ছগীরা মাফ হবে। গুনাহে কবীরা মাফ পাইতে হলে গুনাহ থেকে খাঁটি দেলে তাওবা করতে হবে। গুনাহে কবীরা মাফীর জন্য তাওবা শর্ত।

হে আল্লাহ! তুমি মেহেরবানী করে এ অধম লেখক ও পাঠকবৃন্দসহ সকল উম্মতে মুসলিমাহকে সর্বপ্রকার গুনাহ পরিহার করে তোমার সন্তষ্টির পথে চলার তাওফীক দান কর। আমীন।