মগবাজারে বিস্ফোরণের ৪৪ ঘণ্টা পর কেয়ারটেকারের মরদেহ উদ্ধার

6
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
রাজধানীর মগবাজারে আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনার ৪৪ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে নিখোঁজ কেয়ারটেকার মো. হারুনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদার।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমাদের একটি টিম আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি ওই ভবনে দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকারের। বিস্ফোরণের সময় থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

এদিন সকালে ডিএমপির রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, মগবাজারে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

তিনি বলেন, মগবাজারের বিস্ফোরণের ঘটনায় রমনা থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ৩২। সেখানে ভবন মালিকসহ যারা ভবন দেখভাল মালিকানা রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ এবং যারা ওখানে ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী হিসেবে ছিলেন যেমন- গ্র্যান্ড কনফেকশনারি, শর্মা হাউজ, বেঙ্গল মিট বা সিঙ্গার গ্রুপের লাইসেন্সহীন বা অনুমোদিত বিদ্যুৎ বা গ্যাসের কোনো সংযোগ ছিল কিনা এবং এদের নিজেদের ব্যবসায়িক মালামাল মজুদ এবং ওখানে রাখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

৩০৪ এর ক ধারায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই অতিরিক্ত উপকমিশনার।

রোববার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর রাজধানীর মগবাজারের রাখি নীড় নামের তিনতলা আবাসিক ভবনে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণ এতটাই প্রকট ছিল যে আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ও পাশের রাস্তায় থাকা দুইটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় নিহত সাতজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মৃত সাতজন হলেন- কলেজশিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (২৬), প্রাইভেটকার চালক স্বপন (৩৯), বাসচালক আবুল কাশেম মোল্লা (৪৫), বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আল আমিন (৩০), শর্মা হাউসের পাচক ওসমান গনি, মা জান্নাত (২৩) ও তার নয় মাসের মেয়ে সোবাহানা।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৯ জুন) ঘটনাস্থলে এসে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খোঁজার চেষ্টা করে ফায়ার, সার্ভিস, ওয়াসাসহ পুলিশের কয়েকটি বিশেষ দল। আইজিপি ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পর এবার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটও জানাল, ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি।

এরই মধ্যে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করছি যে, এ রকম কোনো গ্যাস চেম্বার, যে চেম্বারটি বাতাসের সংস্পর্শে এসে এ রকম একটি এক্সক্লুসিভ মিক্সার তৈরি করেছিল এবং যার ফলে এ রকম বড় একটি বিস্ফোরণের ম্যাসিভ এক্সপ্লোশনের ঘটনা ঘটেছে।’

বিস্ফোরণের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে দিনের আলোতে। চারিদিকে শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। মগবাজারের রাখি নীড় নামের ৩ তলা আবাসিক ভবনটির শুধু কাঠামো দাঁড়িয়ে কোনোমতে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ ঘটনাকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা উল্লেখ করে, আইজিপি জানান আবাসিক ভবনটির নিচে তারা পেয়েছেন মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ বলেন, গ্লাসের ভাঙা টুকরা ছাড়া আমরা অন্যকিছু এখনো খুঁজে পায়নি। ভেতরে এখনও মিথেন গ্যাসের গন্ধ রয়েছে।

তবে মেলেনি নাশকতার কোনো আলামত। যদিও বিস্ফোরণের কারণ জানতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ২টি তদন্ত কমিটি কাজ করে যাওয়ার কথা জানান আইজিপি।

এদিকে, বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ রাখি নীড়ের মালিক।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকে ভবনের মালিককে তাদের আত্মীয় স্বজন ফোন দিয়েছে। সে সময়ে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এবং তার অনেক আত্মীয় স্বজন এসেছিল তার খোঁজ করতে; কিন্তু তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্বজন হারানো এক নারী জানান, আমাকে বলতেছে শরীর ভালো না- আজকে গাড়ি চালাবো না। কিন্তু কিস্তির টাকার জন্য নামতে বাধ্য হয়েছে। এরপর শুনি সে মারা গেছে।