মেয়র তাপসের প্ররোচনায় দুদকের এ কর্মকাণ্ড: খোকনের অভিযোগ

6
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
সংবাদ সম্মেলনে এসে মেজাজ হারালেন ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই মেয়র তাপস তাকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের ও পরিবারের আটটি ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে মঙ্গলবার (২৯ জুন) ডাকা সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমার এবং পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আইনি ও রাজপথে মোকাবেলা করা হবে।

পরিবারের আটটি ব্যাংক হিসেব জব্দের পেছনে বর্তমান মেয়র ফজলে নূর তাপসের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন খোকন। তিনি বলেন, ব্যর্থতা ঢাকতে সব করাচ্ছেন তিনি (তাপস)।

অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের ৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন আদালত। এর প্রতিবাদেই জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাঈদ খোকন।

সাঈদ খোকনের দাবি, নিজের সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে সীমাহীন বিদ্বেষ ও হয়রানিমূলক আচরণ করছেন তাপস। দুদকের এ কর্মকাণ্ড তাপসের প্ররোচনায় সংঘটিত হয়েছে। আইনি মোকাবিলার পাশাপাশি প্রয়োজনে ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করা হবে।

ব্রিফিংয়ের পুরোটা জুড়ে সমালোচনা করা হয় বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নানা কর্মকাণ্ডের।
নোটিশ না দিয়ে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও রাজপথে আন্দোলনের কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে দুদক তদন্ত করলে তার এবং তার পরিবারের কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

৮টি হিসাবে ৭ কোটি ৬২ লাখ ৭৪ হাজার ৬০৩ টাকা জমা আছে উল্লেখ করে খোকন আরও জানান, করোনাকালে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলে দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। পরিবার সংসার কিভাবে চলবে এমন কথা বলেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। চেয়ার ছাড়ার পর অভিযোগ আরও জোরালো হয়। দোকান বরাদ্দে ৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও ঝুলছে আদালতে।

গতকাল সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবসহ তার মা ফাতেমা হানিফ, স্ত্রী ফারহানা আলম ও বোন শাহানা হানিফের আটটি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।

দুর্নীতির অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাঈদ খোকনের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আবেদন করে দুদক। শুনানি নিয়ে আদালত ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন। জব্দ হওয়া আট ব্যাংক হিসাবের মধ্যে সাঈদ খোকনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তিনটি হিসাব, তার মায়ের একটি, বোনের দুটি ও স্ত্রীর দুটি রয়েছে।