সালিসে প্রেমিককে তাড়িয়ে নাতনির বয়সী কনেকে নিজেই বিয়ে করলেন আ’লীগ নেতা-চেয়ারম্যান

11
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
প্রেমঘটিত বিষয় মেয়ের বাবার অভিযোগে সমাধান করতে সালিশ বৈঠক ডাকেন ইউপি চেয়ারম্যান। সালিসে ওই ছেলে-মেয়েসহ উভয় পক্ষের লোকজনকে ডাকেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই বৈঠকে নিজেই পছন্দ করে বসেন স্কুল পড়ুয়া কিশোরীকে। শুধু তাই নয়, কিশোরীর বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিয়ে করেই বাড়ি ফেরেন পঞ্চান্নর্ধ্ব ওই চেয়ারম্যান।

এদিকে, প্রেমিকাকে হারানো যুবক বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টার পর তিনি এখন বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

গতকাল শুক্রবার (২৫ জুন) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ১৪ বছরের ওই কিশোরীকে প্রাপ্ত বয়স্ক দেখিয়েই বিয়ে করেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও সাধারণ সম্পাদক। তার প্রথম স্ত্রীর সংসারে এক ছেলে, ছেলের স্ত্রী ও এক মেয়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের যুবকের (২৫) সঙ্গে পাশের গ্রাম চুনারপোল এলাকার স্কুল পড়ুয়া কিশোরী প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্ক মানতে নারাজ ছিলে ওই কিশোরীর বাবা।

বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিলে চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার সালিসির জন্য মেয়ে ও ছেলের দু’পক্ষকে শুক্রবার সকালে পরিষদে ডাকেন। মেয়ে দেখে চেয়ারম্যানের নিজেরই পছন্দ হয়ে যায়। পরে ওই যুবককে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে নিজেই মেয়ের বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। মেয়ের বাবাও রাজি হয়ে যান। পরে বাদ জুম্মা চেয়ারম্যানের আয়লা বাজারের বাসায় কাজী ডেকে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়।

যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বিয়ের কথা স্বীকার করে বলেন, তার স্ত্রীর জন্ম ২০০৩ সালের ২১ এপ্রিল। নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে তিন বছর আগে লেখাপড়া বাদ দিয়েছেন। এটা বাল্য বিয়ে নয়, ভালো লেগেছে তাই বিয়ে করেছে এবং এ বিয়েতে সেও খুশি।

স্থানীয়রা আরও জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তার প্রথম স্ত্রীর ঘরের বড়ো ছেলেও বিয়ে করেছেন। গতকাল বিয়ের সময় চেয়ারম্যানের প্রথম স্ত্রী পটুয়াখালীতে ছিলেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহিন তালুকদার নৌকা প্রতীক নিয়ে গত ২১ জুনের নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার চার দিনের মাথায় এ বিয়ে করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেন।

এদিকে, কিশোরী কনেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। নাজিরপুর ইউনিয়নের তাঁতেরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় নারায়ণপাশা গ্রামের যুবকের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুনের জানান, লোকমুখে কনকদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিয়ের কথা শুনেছি। আইনগত বিষয়ে কোনো জটিলতা নেই।

পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, স্কুল ছাত্রীর বিয়ের এমন একটা খবর আমাদের কাছে এলে বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলামকে শনিবার (২৬ জুন) কনকদিয়া হাইস্কুলে পাঠাই। তিনি সরেজমিনে স্কুলে গিয়ে দেখতে পান কাগজ-পত্রে মেয়েটি ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার জন্ম নিবন্ধনের কাগজও সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, স্কুল ছাত্রীর বিয়ের খবরটি আমার গোচরেও এসেছে। মেয়ের বয়স ও পূর্বের বিয়ে আছে কিনা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।