কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল এখন করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল

17
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
করোনা রোগীর ব্যাপক চাপ সামাল দিতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপপরিচালক আবদুল মোমেন গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে এখনও প্রজ্ঞাপন জারি না হলেও শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। এখনও কিছু কাজ বাকি আছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মোমেন আরও বলেন, ‘এখন থেকে হাসপাতালে শুধু করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি নেওয়া হবে। প্রসূতি ও নবজাতকদের জন্য স্ক্যানু ও গুরুতর রোগীদের জন্য সিসিইউ ওয়ার্ড চালু থাকবে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে জরুরি সেবা খোলা থাকবে। তবে এ সময় বহির্বিভাগ বন্ধ থাকবে।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘২০০ শয্যাকে করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজন পড়লে বাকিগুলোও করা হবে।’

তিনি বলেন, কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ ২০০ সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়েছেন। তাছাড়া আগেরও ৪০০ সিলিন্ডার অক্সিজেন মজুত আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। হাসপাতালের অন্য রোগীদের কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও আদ-দ্বীন হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় ২৪৬ নমুনায় নতুন করে ১১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৪৫ শতাংশ।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, আজ সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের ১৮০ রোগী ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪২ জন করোনা পজিটিভ। বাকি ৩৮ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।

হাসপাতালের দোতলার সব কটি ওয়ার্ডে ২০০ শয্যা স্থাপন করা হয়েছে। নিচের কয়েকটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। করোনা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা দেওয়া এ মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না। রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম পোহাচ্ছেন।

২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার সবচেয়ে বেশি:
জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা অনুপাতে সর্বোচ্চ হার উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৪টি নমুনা পরীক্ষায় ১১১ জনের শরীরে করোনা পজিটিভি শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৯১৩।

জেলায় সাত দিনের লকডাউনের আজ পঞ্চম দিন চলছে। মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন মানুষকে ঘরে রাখতে কাজ করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে ঠুনকো অজুহাতে মানুষ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে। জেলার করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার পরও কেউ সেটা মানতে চাচ্ছে না। আইন না মানায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ৭৬ জন থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।