ডিসেম্বরে জেলা পর্যায়ে কাউন্সিল, দুর্বলতা কাটিয়ে গতিশীল সংগঠন চাই: হানিফ

71
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকার কথা উল্লেখ করে একে দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি এই দুর্বলতা কাটিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে ‍তৃণমূল থেকে জেলা পর্যন্ত সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

রোববার (২০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে নগরীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে একথা বলেন হানিফ। জেলা সার্কিট হাউসে দিনব্যাপী এই বৈঠক হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনও ছিলেন।

বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বারবার বলছি, চট্টগ্রামে সংগঠনের একটা ঐতিহ্য আছে। এই চট্টগ্রামে মাস্টারদা সূর্যসেন, প্রীতিলতাসহ বহু বিপ্লবীর জন্ম হয়েছে। আমাদের বীর সন্তান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, তিনি যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন চট্টগ্রামে, বেগম খালেদা জিয়ার পতনের জন্য অসহযোগের সময়, চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন করে সারাদেশ অচল করে দিয়েছিলেন। তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, আন্দোলন করে কিভাবে ন্যায্য দাবি আদায় করতে হয়। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহিউদ্দিন ভাই মেয়র প্রার্থী ছিলেন। বিএনপি ফল কারচুপির চেষ্টা করেছিল। তখন আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী সারারাত ধরে স্টেডিয়ামে পাহারা দিয়ে সেই কারচুপি ঠেকিয়েছিলেন। বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন।’

‘চট্টগ্রামে এমন আন্দোলনের ইতিহাস তো আছে। চট্টগ্রামের আন্দোলন সারাদেশের নেতাকর্মীদের উজ্জীবীত করেছিল। সেই চট্টগ্রামে এখন যে সাংগঠনিক দুর্বলতা সেটা দুঃখজনক। আমরা এসেছি তৃণমূলের নেতাদের কথা শুনতে এবং সমস্যা থাকলে সেটা সমাধান করতে। সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করে দ্রুত যাতে সম্মেলনটা করা যায়, যদি সমস্যা থাকে, সেটা যাতে এখানে বসেই সমাধান করতে চাই’, বলেন হানিফ।

ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনা দিয়ে হানিফ বলেন, ‘আমরা আগামী ডিসেম্বরে জেলা পর্যায়ে কাউন্সিল করতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এর মধ্যেই জেলায় প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলায় সম্মেলন সম্পন্ন করা। আর মহানগরে ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানার সম্মেলন আমরা করতে চাই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই। এটা করলে আমাদের সাংগঠনিক অনেক নেতা যারা আছেন, যারা মূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, তাদের মূল্যায়ন হবে এবং সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়বে।’

চট্টগ্রামে অনেক যোগ্য নেতা আছেন যারা কেন্দ্রে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘কিন্তু চট্টগ্রামের এই সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্য অথবা আপনাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে সেই নেতারা মূল্যায়িত হতে পারছেন না। যতই সাংগঠনিক তৎপরতা থাকবে, তিন বছর পর পর সম্মেলন হলেই ভাল ভাল নেতৃত্ব চলে সামনে আসবে। আমরা চাই, দক্ষ নেতৃত্ব। আমরা কাউকে চাপিয়ে দিতে চাই না। আপনারা আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা। আমরা আপনাদের কলিগ। একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমাদের সহায়তা নিয়ে কাজ করলে চট্টগ্রামে আপনারাই সাংগঠনিকভাবে লাভবান হবেন।’

সারাদেশে সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে আমাদের অনেকের মধ্যে একটা আয়েশি ভাব চলে এসেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছেন, ততদিন তো ক্ষমতায় আছি। সংগঠন দুর্বল না সবল- সেটা তো বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু এখন আমরা মনে করছি যে, সংগঠনের দিকে আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন। আমরা অনেক জায়গায় দেখেছি যে, ১৫-২০ বছর ধরে সম্মেলন হচ্ছে না। একই কমিটির কোনো পরিবর্তন নেই। সাংগঠনিক কর্মপদ্ধতিও কার্যকর করা যাচ্ছে না।’

‘আমাদের প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর নিয়ম আছে। এর মূল লক্ষ্যই হচ্ছে, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং সংগঠনের মধ্যে যোগ্য ও কর্মঠ লোককে সামনে নিয়ে আসা আর যারা দুর্বল বা কাজে আগ্রহ নেই তাদের আস্তে আস্তে পেছনের সারিতে ঠেলে দেওয়া। কিন্তু সম্মেলন যদি না হয় নিয়মতান্ত্রিকভাবে, তাহলে যোগ্য নেতাদের মূল্যায়নের তো কোনো সুযোগ থাকে না।’

বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-৪ আসনের সাংসদ দিদারুল আলম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এবং তাদের নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং আহবায়ক-যুগ্ম আহ্বায়কদের নিয়ে এই বৈঠক হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সাংসদ আফছারুল আমীন ও তার নির্বাচনী এলাকার সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে অসুস্থ থাকায় সাংসদ বৈঠকে ছিলেন না বলে জানা গেছে।

এরপর বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সাংসদ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও এই নির্বাচনী এলাকার সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

প্রতিটি বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের কয়েকজন উপস্থিত আছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ওয়াসিকা আয়শা খান, আমিনুল ইসলাম আমিনসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।