কুষ্টিয়ায় বাড়ছে মৃত্যু, ডেডিকেটেড হাসপাতাল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি

20
Print Friendly, PDF & Email

সাদ্দাম রহমান, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় (১৯ জুন সকাল ৮টা থেকে রোববার ২০ জুন) দশজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এরআগে ১৮ জুন শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ১৯ জুন শনিবার সকাল ৭টার মধ্যে আরও সাত রোগী মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা রোগীর মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫৭ জনে।

করোনা রোগী ও সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে রোববার (২০ জুন) কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোমেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, করোনা রোগীর বাড়তি চাপ সামলাতে চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ জনবল বৃদ্ধি ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর-২৫, পালস অক্সিমিটার-১০০ জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণের জন্য ওই চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।

এদিকে, এ হাসপাতালে ননকোভিড রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা সংকুচিত করে ডায়াবেটিস হাসপাতালে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

হাসপাতালে প্রতিদিনই রোগী সংখ্যা বাড়ছে। গত শনিবার রাতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টে ১৬৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরআগে শুক্রবার রাতে ১১২ জন ও বৃহস্পতিবার ১৫৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।

প্রথমদিকে জেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ১৪ বা ১৫ শতাংশ। পরবর্তীতে সংক্রমণ বেড়ে ৩০ শতাংশ উঠে। ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে এখন সংক্রমণ হার ৪২ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। হাসপাতালে ১০০ শয্যার করোনা ওয়ার্ডে এখন রোগী ভর্তি আছে ১১০ জন। করোনা ওয়ার্ডে বর্তমানে করোনা রোগী ধারণের ঠাঁই নেই।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, করোনা রোগীর চিকিৎসায় সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে লকডাউনসহ কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।