ভালবাসার দৃষ্টান্ত: দেখতে গিয়ে হাসপাতালের কেবিনেই প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে ও বাসর

24
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
অসুস্থ প্রেমিককে দেখতে গিয়ে হাসপাতালের কেবিনেই বিয়ে এবং বিয়ের পর হাসপাতালের কেবিনেই হল নবদম্পতির বাসর রাত। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) মধ্যরাতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে আলোচিত এ বিয়ে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আলমডাঙ্গা উপজেলার চরপাড়া গ্রামের আব্দুস সোবহানের অনার্স পড়ুয়া ছেলে হুসাইন আহমেদের (২৩) ডান পা ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গা পা নিয়ে তিনি গতকয়েক দিন ধরে আলমডাঙ্গার ফাতেমা ক্লিনিকের ৪ নং কেবিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছেন তার মা-বাবা ও বোন।

এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনার পর ভাঙ্গা পা নিয়ে প্রেমিক হুসাইন আহমেদ হাসপাতালে কষ্টে আছেন এমন সংবাদ পেয়ে প্রেমিকা ঝিনাইদহ জেলার লেবুতলা গ্রামের তাসফিয়া সুলতানা মেঘা (১৯) বৃহস্পতিবার বিকেলে ছুটে আসেন প্রেমিককে দেখতে।

সবকিছু জানার পর প্রেমিকের অভিভাবক প্রেমিকার বাবার সাথে মোবাইলফোনে এ ঘটনা জানান। ঘটনা জানার পর তিনি মেয়েকে বাড়িতে তুলে নিতে আর রাজি হননি। বলেছেন, একবার যখন ঘর থেকে বের হয়ে গেছে ওই মেয়ে আর ঘরে তুলবেন না। সম্ভব হলে বিয়ে দিয়ে দেবার পরামর্শ দেন।

বাবার কথা শুনে ঝিনাইদহ কেসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা তাসফিয়া সুলতানাও বিয়ের দাবিতে অনড় সিদ্ধান্তের কথা ব্যক্ত করেন। এক পর্যায়ে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। পরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালের কেবিনেই কাজী ডেকে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর ওই কেবিনই হয় তাদের বাসর।

চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা পৌর সভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলাল উদ্দিন জানান, ক্লিনিকে বিয়ে হয়েছে বিষয়টি আমি সকালে শুনেছি। ছেলে অসুস্থ হওয়ায় ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে ছেলে-মেয়ে দুইজনই অবস্থান করছেন। তারা ভালবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।

আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু বলেন, সকালে নবদম্পতিকে দেখে এসেছি। ছেলে সুস্থ হলেই বাড়িতে ফিরবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সেখানে বিয়ের অন্য আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে।