নারী মদ খেলে খারাপ, পুরুষের জন্য হালাল নাকি: সংসদে হারুন

36
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, মাননীয় স্পিকার, আজকে আমাদের দেশে একটা প্রচলন, নারীরা ক্লাবে গেলে বলা হয় খারাপ মেয়ে। নারী মদ খেলে বলা হয় খারাপ। কিন্তু পুরুষ গেলে কোনো দোষ নেই। নারীর জন্য হারাম। কিন্তু পুরুষের জন্য হালাল নাকি। রাত জেগে পুরুষ ক্লাবে আড্ডা দিবে আর মদ খাবে, এটা কি খারাপ না? এটা এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বিল-২০২১’ পাস করার সময় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ এ কথা বলেন। সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আজকে আপনার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, গত পরশুর ঘটনায় আপনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু বোটক্লাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ এ ক্লাবের সভাপতি আমাদের পুলিশের প্রধান। সে ক্লাবটি নদীর মধ্যে অবস্থিত। তুরাগ নদী দখল করে এ ক্লাবটি তৈরি করা হয়েছে। সব জায়গায় ভাইরাল হচ্ছে তুরাগের পাড় দখল করে এ ক্লাব বানানো হয়েছে। এসব বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নিবেন।’

‘মাননীয় স্পিকার, আজকের শিশু আগামীদের ভবিষ্যৎ। সুন্দর জাতি গঠনে নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নারীদের কর্মক্ষেত্রে সফলতা বেড়েছে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে আমাদের নারীরা কতটুকু নিরাপদ? সে আসা-যাওয়ার পথে এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি-ধর্ষণের শিকার হচ্ছে তার জন্য আমরা কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারছি?’

বিএনপির এ সাংসদ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাদের যে আইন আছে তার প্রয়োগ যদি আমরা করতে না পারি, তাহলে এ আইন পাস ভেস্তে যাবে। আমি বলব, রাস্তায় বাসে-ট্রেনে নারীরা সাংঘাতিকভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব এ আইনটি পাস হলে দেশে নারীদের কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। জেলা উপজেলা পর্যায়ে অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু যেখানে আমাদের দেশে নারীরা নিরাপদ নেই; সেখানে বিদেশে নারীদের আমরা কর্মক্ষেত্রে পাঠাচ্ছি। তারা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন পত্রপত্রিকায় কী পরিমাণ বীভৎস চিত্র দেখছি আমরা। কোরআন শরিফে বলা আছে নারীরা ঘরের বাইরে গেলে তাদের সঙ্গে একজন অভিভাবক থাকতে হবে। কিন্তু আমরা নারীদের বিদেশে পাঠাচ্ছি। সেখানে তারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমাদের অ্যাম্বাসিগুলো কোনো খোঁজ নেয় না। আর দেশের এজেন্সিগুলো দেশ থেকে পার করে দিতে পারলে তাদের কাজ শেষ। আমরা কি এসব বন্ধ করতে পারি না। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না?’

হারুনুর রশীদ বলেন, কিছুদিন আগে মুনিয়া নামের একটি ছোট মেয়েকে দিয়ে ব্যাভিচার করানোর ঘটনা দেখলাম। তাকে হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী কতটুকু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন? দেশের প্রভাবশালী এসব মহলকে যদি আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে কেবল আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।