‘জনগণের নিরাপত্তায় পুলিশকে দেওয়া সরকারি অস্ত্র জনগণ হত্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে’

14
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়া শহরের কাস্টম মোড়ে রোববার (১৩ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় পরকীয়া প্রেমের ঘটনায় স্ত্রী-শিশুসন্তানসহ তিনজনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (১৪ জুন) সকালে লাশগুলো পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরে দুপুরে আসমা খাতুন, তার শিশুপুত্র রবিন ও প্রেমিক শাকিল খানের দাফন সম্পন্ন করে স্বজনরা।

নিহতদের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার বাদ জোহর আসমা খাতুন ও তার শিশুপুত্র রবিনের জানাজা শেষে নিজ গ্রাম কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অন্যদিকে নিহত শাকিল খানের নিজ গ্রাম চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা কারিগরপাড়ার মেছের উদ্দিন দারুল উলুম মাদরাসায় জানাজা শেষে সোমবার দুপুর ১২টায় সাঁওতা কারিগরপাড়া গোরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত আসমার ভাই বাবুল শেখ বলেন, সরকার পুলিশকে অস্ত্র দিয়েছে জনগণের নিরাপত্তার জন্য। সেই অস্ত্র যদি জনগণকে হত্যায় ব্যবহৃত হয়, তাহলে জনগণ কী করবে? সৌমেন আমার বোন ও ভাগনেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। প্রচলিত আইনে সুষ্ঠু বিচার চাই।

চাপড়া ইউনিয়নের কবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ইসলামে পরকীয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সমাজে ধর্মীয় অনুশাসন না থাকায় পরকীয়া বাড়ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

আসমার বাবা আমির শেখ বলেন, সৌমেন পরিচয় গোপন করে ৩ বছর আগে মেয়েকে বিয়ে করেছে। হত্যার পর জানলাম সৌমেন হিন্দু। তিনি আরও বলেন, এমন হত্যা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। সৌমেনের ফাঁসি চাই।

নিহত শাকিলের বাবা মিজবার বলেন, ‌‘আমার ছেলের কোনো দোষ ছিলো না। কেন তাকে হত্যা করা হলো? পুলিশ অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীর মতো আচরণ করে। এমন আচরণ বন্ধ করতে হবে এবং শাকিল হত্যার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।’

চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হাসান রিন্টু বলেন, পুলিশের গুলিতে জনগণ মারা যাবে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুলিশ বাহিনীকে আরও সচেতন হতে হবে। ট্রিপল মার্ডার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রত্যাশা করি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, সকালে পরিবারের কাছে তিনজনের লাশ হস্তান্তর করা হয়। পরিবার লাশ দাফনের বিষয় নিশ্চিত করেছে।

তিন খুনের আসামি এএসআই সৌমেন রায়কে সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হকের আদালতে তাকে নেওয়া হয়। আসামি সৌমেন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।