অবশেষে বাতিল হলো বঙ্গবন্ধুর ৪ খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব

7
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আত্মস্বীকৃত খুনির মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আজ রোববার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রথীন্দ্র নাথ দত্ত স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২০ এর ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা, সরকার এতদ্বারা Rules Of Business 1996 এর Schedule-1 (Allocation of Business) এর তালিকা ৪১ এর ৫ নম্বর ক্রমিকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭২তম সভার ১১.৩ নম্বর আলোচ্যসূচির সিদ্ধান্তের আলোকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য শহীদদের হত্যা মামলায় আত্মস্বীকৃত খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিম্নোক্ত চারজনের নামের পাশে উল্লিখিত খেতাব বাতিল করল।

যথা: লেফটেন্যান্ট কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নম্বর: ২৫), লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নম্বর: ৯০), লেফটেন্যান্ট এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নম্বর: ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নম্বর : ৩২৯)।

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ওই চারজনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব স্থগিতের নির্দেশ দেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই প্রেক্ষাপটে গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭২তম সভায় এই চার খুনির খেতাব বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

স্বাধীনতার স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছুসংখ্যক বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করে। নৃশংস এ হত্যার ৩৪ বছর পর ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ভারতে পালিয়ে থাকা আবদুল মাজেদ নামের এক আসামিকে রায়ের ১০ বছর পর গত বছরের এপ্রিল মাসে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বাকি ছয় আসামির মধ্যে দণ্ডিত আবদুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা গেছে। অন্য পাঁচজন এখনো পলাতক।

পলাতক আসামিরা হলো খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেম উদ্দিন খান। তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে।