ঈদে পুলিশের ৫ স্তরের নিরাপত্তা, ‘কঠোর’ র‌্যাব

20
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
ঈদুল আজহার আনন্দ নির্বিঘ্ন করতে গরুর হাট, ঈদের জামাত ও ঈদের পর ফাঁকা ঢাকায় জানমাল রক্ষায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সেই সঙ্গে রাজধানীর বাইরেও সারাদেশে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও নিরাপত্তায় কঠোর থাকবে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

ডিএমপির বিদায়ী জনপ্রিয় কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম বলেন, ‘ডিএমপির পক্ষ থেকে ঈদের জামাতে সুদৃঢ়, সুসমন্বিত ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদগাহে মুসল্লিরা জায়নামাজ ও ছাতা সঙ্গে ছাড়া আর কোনো কিছুই সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মুসল্লিদের জায়নামাজ ও ছাতা তল্লাশির পর সেগুলো নিয়ে ঈদগাহে প্রবেশের অনুমতি দেবে।’

কমিশনার আরও বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহ ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর ঈদ জামাতের জন্য ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পোশাকধারী পুলিশ, সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ, সোয়াত, সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, আর্চওয়ে ও সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। জাতীয় ঈদগাহে প্রত্যেক মুসল্লিকে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। মুসল্লিদের তিন ধাপে আর্চওয়ে ও তল্লাশির মধ্য দিয়ে ঈদগাহে প্রবেশ করানো হবে।’

ঈদগাহের চারদিকে ও ভেতরে সতর্ক অবস্থায় থাকবে ইউনিফর্মে ও সাদা পোশাকে পুলিশ। ঈদগাহসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি থাকবে ফায়ার টেন্ডার, মেডিক্যাল টিম, কমান্ড ভেহিক্যাল ও ওয়াচ টাওয়ার।

সুযোগ্য এই ডিএমপি প্রধান জানান, জাতীয় ঈদগাহ মাঠে প্রবেশে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আবদুল গণি রোড, মৎস্য ভবন ও দোয়েল চত্বরসহ কয়েকটি এলাকায় ব্যারিকেড থাকবে। এসব সড়ক দিয়ে ঈদগাহের দিকে হেঁটে যেতে হবে। ব্যারিকেডের ভেতর ভিভিআইপি ছাড়া কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। যেসব মুসল্লি গাড়ি নিয়ে আসবেন তাদের ট্রাফিক কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করতে হবে। মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ, আইইবির ভেতরে পার্কিং, কার্পেট গলি, দোয়েল চত্বর, ফজলুল হক হল এবং প্রেসক্লাব লিংক রোড ব্যারিকেডের বাইরে গাড়ি পার্কিং করা যাবে।

এদিকে, ঈদকে ঘিরে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ঈদে সবচেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণে ঈদ জামায়াত হয় দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে। যে কারণে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে র‌্যাব নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

সেই সঙ্গে সারাদেশের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহে থাকবে র‌্যাবের বিশেষ নজরদারি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তায় থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা, ডগ স্কোয়াড। সেই সঙ্গে করা হবে সুইপিং। সাদা পোশাকেও র‌্যাব সদস্যরা মোতায়েন থাকবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।’ ঈদ পরবর্তী ফাঁকা রাজধানীতে, জাতীয় শোক দিবস ও জন্মাষ্টমীতেও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান র‌্যাবপ্রধান।