ফেসবুকে মন্তব্য করায় বশেমুরবিপ্রবির এক শিক্ষককে আরেক শিক্ষকের আইনি নোটিশ

11
Print Friendly, PDF & Email

জয়নাল আবেদীন জিহান, বশেমুরবিপ্রবি:
ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাজী মোহাম্মদ মাহাবুবকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও সাবেক রুটিন উপাচার্য ড. মো. শাহজাহান।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ফেসবুক গ্রুপে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদ্দাম হোসেনের একটি পোস্টে অন্যান্য অনেক শিক্ষকের মতোই কমেন্ট করেন অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাজী মোহাম্মদ মাহবুব।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লোজ গ্রুপটিতে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত আলোচনা ও মন্তব্য করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রতিনিধি এই গ্রুপ পরিচালনা করেন। কোভিড মহামারীতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তথ্য আদান প্রদানের লক্ষ্যে গ্রুপটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এইরকম একটি আলোচনার অংশ হিসেবে অনলাইন ক্লাসে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বশেমুরবিপ্রবি’র পিছিয়ে যাওয়া ও আপগ্রেডেশন বোর্ডে শর্তারোপসহ বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে লেখালেখি করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ডীনস কমিটির মেম্বারদের অনলাইন প্রশিক্ষণ নিয়ে মন্তব্য করেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক গাজী মাহাবুব। তিনি পরোক্ষভাবে ডীনদের কাজের সীমাবদ্ধতা ও জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক।

পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন ও সাবেক রুটিন উপাচার্য ড. মো. শাহজাহান অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাজী মোহাম্মদ মাহবুবের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠান এবং সন্তোষজনক উত্তর না পেলে ডিজিটাল আইনে মামলার হুশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাধারণ শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের প্রতিনিধি সদস্যগণ মনে করেন যে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস আশানুরূপ না। কিন্তু এই মহামারীকালীন সময়ে শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং কাউন্সেলিং এর প্রয়োজন। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি অনেক পিছিয়ে এবং অগ্রায়নের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এক্ষেত্রে ডীনস কমিটির ভূমিকা অপরিহার্য। এখন এমন আইনী নোটিশ এলে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়েও আমাদের কথা বলার পথ বন্ধ করা হবে।

শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষকের উকিল নোটিশ এবং মামলার হুমকিতে সকলে হতাশা প্রকাশ এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এতে করে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি খারাপ করবে বলে মন্তব্য করেন অনেক শিক্ষক। অর্থনীতি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

উকিল নোটিশ পাওয়া শিক্ষক অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাজী মোহাম্মদ মাহাবুব বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রাইভেট গ্রুপে মূলত শিক্ষকদের সুখ, দুঃখ, রিসার্চসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়। সেখানে একটি পোস্টে কমেন্টের কারণে উকিল নোটিশ পাঠানো নজিরবিহীন ঘটনা, যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার ঘটলো’।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড.শাহজাহানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।