ঈদ যাত্রায় বিড়ম্বনার আরেক নাম হিজড়া!

28
Print Friendly, PDF & Email

ঋত্বিক তারিক, ঢাকাঃ
আসন্ন ১২ আগস্ট আপনজনের সান্নিধ্যে ঈদুল আজহা উদযাপনে রাজধানী ছেড়ে বাড়ির পথ ধরেছেন হাজার হাজার মানুষ। বাড়ির পথ ধরতে গিয়েই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। বাস ও ট্রেনের অতিরিক্ত ভাড়া, জ্যাম, মলমপাটি, হকার উপদ্রপের সঙ্গে যোগ হয়েছে হিজড়াদের উপদ্রব। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বাসে উঠেই ঈদ বোনাসের নামে যাত্রীদের অযথাই নির্মম হয়রানি করছে তারা।

রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকায় কয়েকটি হিজড়াদল লোকাল বাসে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে ঈদের বোনাস নেওয়ার নামে নানান অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে টাকা আদায় করছে। আর কেউ টাকা না দিতে চাইলেই তার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্তও ঘটানো হচ্ছে।

লালন পরিবহন গাড়ীর যাত্রী রাকিবুল ইসলাম ইয়ামিন জানান, পাটুরিয়া ঘাটে যাওয়ার উদ্দেশ্য যাত্রাবাড়ী থেকে রওনা দিয়ে ২ বার হিজড়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সকালে সংসদ ভবনের কাছে গাড়ি জ্যাম থাকায় ২টা হিজড়া ওঠে। এরপর টাকার জন্য জোর করলে বাধ্য হয়েই ১০ টাকা দিয়েছি কিন্তু আবার কল্যাণপুর বাস স্টপে আরেক হিজড়া এসে টাকা চায়। তখন না দিতে চাইলে তারা আমাকে যাচ্ছেতাই বলে গালাগাল করে। শুধু তাই’ই নয় রাজধানীর প্রায় প্রত্যেকটি বাস স্টপেই তাদের এ ঘাঁটি।

প্রজাপতি পরিবহন বাসের ড্রাইভার মমিন জানান, এটা ঢাকার নিত্যদিনের ঘটনা। প্রায়ই যাত্রীদের সংঘবদ্ধ হিজড়ারা হয়নি করে। ওদের অনেক বড় সংগঠন রয়েছে কেউ কিছু বলেও পারেনা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা জরুরী বলেই মনে করি।

এদিকে, গাবতলি থেকে কুষ্টিয়ায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষারত শামীমা সুলতানা সীমা জানান, আমি প্রায়ই হিজড়াদের টাকা দেই। আর যাত্রাবাড়ী থেকে মোহাম্মদপুর যাওয়ার জন্য অনেক দিন ২ বারের বেশিও টাকা দিতে হয়। আর ঈদ আসলে অন্যান্য সিন্ডিকেটের মত হিজড়াদেরও উপদ্রপ বেড়ে যায়। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চাচ্ছি।

টেকনিক্যালে টাকা আদায় করার সময় তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) রানী জানান, আমাদের কিছুই করার নেই। আমাদেরও তো পেট আছে। মানুষে কাজ দেয়না। তাই বাধ্য হয়ে পথে নেমেছি। ঈদ আসলে আমরা একটু বাড়তি টাকা ওঠাই।

তিনি আরও বলেন, সবার সাথে আমরা দুর্ব্যবহার করি না। আমরাও চাইনা কেউ আমাদের দ্বারা কষ্ট পাক। এখানে যা কিছু করি সবটাই পেটের দায়ে করতে হয়।