কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গনে শোক

32
Print Friendly, PDF & Email

কালচারল রিপোর্ট:
করোনা আক্রান্ত হয়ে বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ২০মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

কবরীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের বিনোদন অঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক তারকাই তার মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সুবর্ণা মুস্তাফা লিখেছেন, আপনার হাসি, আপনার অভিনয়, আপনার মিষ্টিমুখ- সকল বয়সের শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। রুপালি পর্দার সেরা অভিনেত্রী। আমি কীভাবে আপনাকে বিদায় জানাব! দমবন্ধ লাগছে! শান্তিতে থাকুন কবরী ফুপু।

চিত্রনায়ক শাকিব খান লিখেছেন, কিংবদন্তি এই মানুষটির সঙ্গে আমার অসংখ্য স্মৃতি। যখনই দেখা হতো আমাকে স্নেহ করতেন। তার সময়কার বিভিন্ন স্মৃতি শেয়ার করতেন। কবরী আপার মৃত্যুতে প্রিয় অভিনেত্রী হারানোর পাশাপাশি একজন অভিভাবক হারানোর শোক অনুভব করছি। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন কবরী আপা…।

ফাহমিদা নবী লিখেছেন, আজ আর কোনো ছবি নয়, মনের ভেতর থাকুক সেই ছবি, যে ছবি চির অমলিন। কিন্তু এই ছবিটা না দিয়ে পারলামনা। কেমন যেন মায়া আর কষ্টমাখা আত্মবিশ্বাসী ছবিটা! ছবিটাতে একজন সংগ্রামী, কষ্টকে জয় করা এবং আবার স্বপ্ন দেখবার প্রত্যয়ে নিজেকে তৈরি করার একজন নতুন সাহসি নারীকে দেখলাম, মনে হলো উনাকে নিয়ে লিখে কিছুটা হারানোর বেদনা ভুলি! মিষ্টি মেয়ে “খ্যাত চিত্রনায়িকা কবরী চিরনিদ্রায় চলেই গেলেন!

ফাহমিদা নবী আরও লিখেছেন, মনে হচ্ছে অনেক বৃষ্টি হোক, ঝড় হোক, ঝরে যাক অব্যক্ত বেদনা এই ভোর রাতে! মৃত্যু যার যখন হবে, তার তখনি চলে যেতে হবে। এ নিয়ে আর কিছু বলব না। পবিত্র মাসে চলে গেলেন সেটাই ভালো হলো। আব্বার কথা মনে পড়ছে কাঁদতে পারিনা আর। কবরী আন্টিকে আমার বকুল ফুল মনে হলো। জানি না কেন! বকুল ফুলকে খুব দুঃখী ফুল মনে হয় সেই ছোটবেলা থেকে। যখনি কুড়াতাম তখনি মনে হতো এই ফুল তো ছেঁড়া যায় না বিশাল গাছে ছোট্ট ছোট্ট ফুল। ঝরে ঝরে পড়ে বৃষ্টি ফোটার মতো। বোধহয় কাঁদে আর সুখ বিলায়! শুকিয়ে যায় কিন্তু গন্ধ ছড়াতেই থাকে আজীবন কি আশ্চর্য! তাই বকুল ফুল অন্যরকম প্রিয় দামি সংগ্রামী ফুল আমার কাছে। যে দুঃখী সেই তো সংগ্রামী কষ্টের চোখই তো এত মিষ্টি হাসি বহন করতে পারে! আমার কেন যেন তাই মনে হয়েছে তার এই স্থিরচিত্রটি দেখে। অনেক যুদ্ধ করেছেন নিজের সঙ্গেই নিজেই বোধহয়! অনেক ক্লান্ত ছিলেন। অনেক বেদনাকে ছাপিয়ে আবার হাঁটতে পথ খুঁজেছিলেন হয়তো! আপনার স্বপ্নের ছবিটা বানানো হলোনা! থাক চিরনিদ্রায় আপনার আত্মার শান্তি হোক। আপনার জন্য বকুল ফুলের ভালোবাসা। আল্লাহ আপনাকে জান্নাত দান করুন। আমিন।

কনক চাঁপা লিখেছেন, আসলেই আর পারছি না! কবরী আপা নেই। ঘণ্টা পাঁচেক আগে দোয়া চেয়ে স্ট্যাটাস দিলাম আর এখনই এটা শুনলাম! এভাবেই আমরা একে একে হারাব আমাদের প্রিয়জনকে! প্রিয়জন চলে গেলে পাঁজরটাই মনে হয় ভেঙে যায়। আর যদি মোটামুটি নিয়মিত হয় তখন তা সহ্যের বাইরে চলে যায়। আল্লাহ, এই রমজানে চলে যাওয়া মানুষটিকে এবং আরও যারা চলে যাচ্ছেন সবাইকে তুমি দয়া কর।
মমতাজ বেগম লিখেছেন, হাজার বছর বেঁচে থাকুন মানুষের হৃদয়ে।

আঁখি আলমগীর লিখেছেন কবরী আন্টি, ওপারে ভালো থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে জান্নাত দান করুন, আমিন।
জায়েদ খান লিখেছেন, কবরী আপা নেই। ভাবতেই কেমন লাগছে।

বিজরী বরকতুল্লাহ লিখেছেন, বরেণ্য অভিনয়শিল্পী কবরী সারোয়ার রাত ১২টা ২০ মিনিটে এ চলে গেলেন সবাইকে ছেড়ে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার আত্মার শান্তি কামনা করি। আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
বেলাল খান লিখেছেন, আমাদের কৈশোর কালের নায়িকা ছিলেন কবরী। মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। কী মিষ্টি হাসি তার! শেষ বয়সে এসে রাজনীতিতেও নাম লেখালেন। এমপি হলেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত কয়েক দিন ধরেই আইসিইউতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরে ছিলেন তিনি। আজ চলে গেলেন চিরতরে (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শাহনাজ খুশি লিখেছেন, সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চলে গেলেন কবরী আপা! কোথায় যেন একটা আশা ছিল, সবাইকে অবাক করে, আপনি সেই চিরচেনা মিষ্টি হাসি দিয়ে ফিরে আসবেন। কিন্তু এলেন না। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা। ওপারে শান্তিতে ঘুমান।

বিদ্যা সিনহা মিম লিখেছেন, ওপারে আপনি ভালো থাকুন। বিদায় কিংবদন্তি।

জুলফিকার রাসেল লিখেছেন, প্রিয় অভিনেত্রী কবরীও চলে গেলেন! আমাদের আকাশে আলো কমে যাচ্ছে!

সিয়াম আহমেদ লিখেছেন, অবশেষে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’খ্যাত সারাহ বেগম কবরী চলে গেলেন করোনা আক্রান্ত হয়ে। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

ইমন সাহা লিখেছেন, কতো স্মৃতি, কতো আদর, ভালোবাসা, শাসন পেয়েছি আপনার কাছ থেকে। ঈশ্বর আপনার আত্মার মঙ্গল করুক আন্টি।

বুবলী লিখেছেন, মৃত্যু সবচেয়ে বড় সত্য কিন্তু এত অবিশ্বাস্য কেন? আমাদের সবার মৃত্যু হবে জেনেও মানতে ইচ্ছে করোনা কেন? পৃথিবীতে হয়তো এমন অনেক কোনো কোনো উত্তর নেই। ওপারে ভালো থাকবেন কবরী ম্যাডাম। আপনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

গত ৫ এপ্রিল করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরপরই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল কবরীকে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ৮ এপ্রিল তাকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখান চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।