অবশেষে হতদরিদ্র মেধাবী ভূপেন্দ্রর মেডিকেলে ভর্তির দায়িত্ব নিলেন আব্দুর রহমান

10
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী ভূপেন্দ্র অধিকারীর মেডিকেলে পড়ার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান।

ভূপেন্দ্র অধিকারী নীলফামারীরর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের দিঘির পাড় গ্রামের মতিলাল অধিকারী ও বাসন্তী অধিকারী দম্পতির সাত সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সন্তান। ভূপেন্দ্র ২০২০-২১ এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ) ১০০ নম্বরের মধ্যে ৭০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
ভূপেন্দ্রর বাবা একজন বাদাম বিক্রেতা, মা একজন গৃহিণী।

এতদিন বাদাম বিক্রি করেই ভূপেন্দ্রর পড়াশোনার খরচ চালিয়েছিলেন তিনি। বয়স হয়ে যাওয়ায় আগের মতো বাদামের ব্যবসা করার মতো সামর্থও নেই তার।

ভূপেন্দ্র বলেন, তিন ভাই ও চার বোন মিলে আমরা মোট সাত ভাইবোন। ভাইদের মধ্যে আমি সবচেয়ে ছোট। বড় ভাইয়েরা বিবাহিত।। তারা তাদের পরিবার নিয়ে নিজেরাই হিমশিম খাচ্ছেন। তারা ঢাকা ও বগুড়ায় রিকশা চালান। অন্যদিকে আমার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে আর এক বোন আছে তার দায়িত্বও বাবার ওপর।

হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ভূপেন্দ্র ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভীষণ আগ্রহী। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি বাড়ির পাশের ডালিয়া চাপানী উচ্চ বিদ্যালয়় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। কিন্তু অদম্য মেধাবী ভূপেন্দ্র রায় মেডিকেলে ভর্তি সুযোগ পেয়েও চরম হতাশ হয়ে পড়েন।

ভূপেন্দ্রর বাবা মতিলাল অধিকারী বলেন, ছেলেটাকে ঠিকভাবে লেখাপড়া খরচ দিতে পারিনি। তারপরও সে নিজের ইচ্ছা শক্তিতে ও আগ্রহে কঠিন পরিশ্রম করে লেখাপড়া অব্যাহত রেখেছে। এখন ছেলে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে অনেক টাকা-পয়সা লাগবে। এত টাকা কীভাবে যোগাড় করব তা ভেবেচিন্তে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, সংসারে এমন কোনো সহায় সম্পদও নেই যে তা বিক্রি করে ছেলেকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করাব। তা ছাড়া ছেলেকে মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করাতেও প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের খরচ লাগবে। সেই খরচই বা কীভাবে যোগাব আমি? তাই তিনি ছেলের মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালীদের আর্থিক সহায়তা চান তিনি।

অর্থাভাবে ভূপেন্দ্র অধিকারীর মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। ঠিক তখনই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। তিনি ভূপেন্দ্রর পড়াশুনার সব দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।