হজে গেছেন ক্রাইস্টচার্চ হামলার শিকার মুসলিমরা

21
Print Friendly, PDF & Email

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ
সৌদি বাদশাহ সালমানের আমন্ত্রণে নিউজিল্যান্ডের মসজিদ হামলার শিকার ২০০ জন মুসলিম গেছেন মক্কায় হজ করতে৷ এর মধ্যে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া মুসল্লিরা যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন হামলায় নিহতদের স্বজনও৷

সৌদি বাদশাহর পক্ষ থেকেই এই ২০০ জনের যাওয়া-আসা থেকে শুরু করে সব খরচ বহন করা হবে৷ ধারণা করা হচ্ছে, এজন্য মোট খরচ হবে অন্তত এক মিলিয়ন ডলার৷ মক্কার পাশাপাশি মদিনাও যাবেন নিউজিল্যান্ড থেকে যাওয়া মুসল্লিরা৷

নিউজিল্যান্ডে সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুলরাহমান আল সুহাইবানি জানিয়েছেন, ১৫ মার্চ দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় বাদশাহ মর্মাহত হয়েছেন৷ ৫১ জনকে গুলি চালিয়ে হত্যার দায়ে অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত হামলাকারীর বিচার এখনও চলছে৷

ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারী হামলার পুরো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন৷ এই ঘটনায় তার মতো অন্য অনেক শেতাঙ্গ বর্ণবাদী এমন আরো হামলায় উদ্বুদ্ধ হয়েছেন৷ সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এল পাসোতে এক বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারান ২২ জন৷

সৌদি বাদশাহ অবশ্য প্রতি বছরই নিজের অতিথি হিসেবে কয়েকশ মানুষকে হজ পালনের আমন্ত্রণ জানান৷ তবে এবারই প্রথন নিউজিল্যান্ড থেকে কেউ বাদশাহী আমন্ত্রণে হজে পেলেন৷

দুই সপ্তাহ আগে সৌদি রাষ্ট্রদূত নিজেই ক্রাইস্টচার্চে গিয়ে হজের পোশাক দেন৷ হামলার শিকার আল নুর মসজিদের ইমাম গামাল ফৌদা বলেন, ‘‘এটা দারুণ ব্যাপার৷ আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভের এটি একটি অনন্য সুযোগ৷” হামলা থেকে বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে ফৌদাও একজন৷ তিনিও পেয়েছেন বাদশাহের আমন্ত্রণ৷

ফৌদা বলেন, হজে সবাই যেতে চাইলেও নিউজিল্যান্ড থেকে সৌদি আরব যাওয়ার খরচের কথা চিন্তা করে অনেকেই সেটা পিছিয়ে দেন৷ ফলে এবারের আমন্ত্রণের অনেকের জন্যই অশেষ আনন্দের বার্তাই নিয়ে এসেছে৷

তিনি বলেন, ‘‘হামলার ঘটনার পরও নিউজিল্যান্ডের সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে৷ ঘৃণা আমাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারবে না৷ আমরা একে অপরকে ভালোবাসতে থাকবো৷”

শারীরিকভাবে সক্ষম সব মুসলিমেরই জীবদ্দশায় হজ পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে৷ ফলে অনেকেই সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে হলেও হজে গিয়ে থাকেন৷ বার্ষিক এই যাত্রায় পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকেই সৌদি আরবের মক্কায় জড়ো হন প্রায় ২০ লাখ মুসলিম৷ অতীতের পাপ মুছে ফেলে মহান আল্লাহ পাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাই এর মূল লক্ষ্য৷