কোরবানির পশুর হাটেও ডেঙ্গু আতঙ্ক!

27
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
ডেঙ্গু জ্বর ও এডিস মশার আতঙ্কে ভুগছে রাজধানীবাসী। ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলেও জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। আর এর মধ্যেই রাজধানীর ২৪ টি হাটে একযোগে বেচাকেনা শুরু হয়েছে কোরবানির পশু।

রাজধানীতে চলা ডেঙ্গুর প্রকোপ ও আতঙ্কের ছাপ দেখা গেছে ২৪টি হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গরুর ব্যাপারীদের মধ্যেও। হাটগুলোর পরিবেশ এডিস মশার উৎপত্তির সহায়ক হওয়ায় আতঙ্কেই রয়েছেন ব্যাপারীরা।

বুধবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর আফতাব নগরের জহিরুল ইসলাম সিটিতে অবস্থিত কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট ঘুরে এ চিত্রই দেখা গেছে।

ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীতে চলা ডেঙ্গু জ্বরের আতঙ্কে এমনিতেই তারা ভীতসন্তুষ্ট। এর মধ্যে হাটের পরিবেশ তাদের আরও আতঙ্কিত করে তুলছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ইজারাদারদের পক্ষ থেকে হাটে যেন এডিস মশা না জন্মায় সেই বিষয়ে কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

সরজমিনে দেখা গেছে, আফতাব নগরের অস্থায়ী পশুর হাটের পাঁচ-ছয়টি জায়গায় খোলা মাঠে পানি জমে রয়েছে। এসব জলাশয়ের আশপাশে বিভিন্ন ফলের খোসা ও নানা আবর্জনা পড়ে আছে। আর এসব উপাদানই এডিস মশা উৎপত্তির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এছাড়া সম্পূর্ণ হাট এলাকায় যেভাবে ড্রেন বা মাটি খোঁড়া হয়েছে, তাতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। আর এসব জলাবদ্ধতায় পশুর ব্যবহৃত নানা পরিত্যক্ত জিনিষপত্র মিশে গিয়ে এডিস মশা জন্মানোর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। হাট এলাকায় ডেঙ্গু জ্বরের হুমকি থাকা সত্ত্বেও সিটি করপোরেশন এবং ইজারাদারদের উদাসীন ভূমিকা ব্যাপারীদের আরও আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া থেকে হাটে আগত গরুর ব্যাপারী মিল্টন বলেন, আমরা গরুগুলো যেখানে রেখেছি, এর পাশে পানি জমে আছে। প্রচণ্ড মশার উৎপাত। এখন যদি এই মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়, তাহলে আমাকে কে দেখবে আর আমার গরুগুলোরই বা কি হবে? ইজারাদাররা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মশার মারার কোনো ওষুধও দিতে দেখি নাই।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত ব্যাপারী মোকলেসুর রহমান বলেন, হাটে ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি। হাটে চারদিকে যেভাবে পানি জমে আছে যে এখানে ডেঙ্গু মশা থাকা স্বাভাবিক। আমরা এ বিষয়ে কিছুটা আতঙ্কিত। আমরা চাই ইজারাদার ও সিটি করপোরেশন এমন ব্যবস্থা করুক যেন হাটে ডেঙ্গু মশার আতঙ্ক না থাকে।

এ বিষয়ে আফতাব নগরের অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার নবী হোসেন রনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে আমরা স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন ৪টি ফ্রগিং মেশিনের মাধ্যমে হাটে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হবে। এছাড়া হাট এলাকা যেন পরিষ্কার পরিছন্ন থাকে সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।