লকডাউনের প্রথম দিনেই রাজধানীর সড়কে ব্যস্ততা, জনসমাগম

19
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
সারা দেশে লকডাউনের প্রথম দিন রাজধানীর সড়কে হঠাৎ হঠাৎ দু-একটি বাস চলতে দেখা গেছে। সকালের প্রথম দিকে যানবাহন কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেড়েছে। বেড়েছে রিকশা, সিএনজি, প্রাইভেটকারের ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা। এছাড়া রাস্তাঘাটে জনসমাগমও দেখা গেছে। অনেককেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে রাস্তায় বের হতে দেখা গেছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রেই। এর ফলে লকডাউনের প্রথম দিন সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এদিকে, বিধি-নিষেধের আওতামুক্ত বিভিন্ন জরুরি পণ্য পরিবহণ করতে দেখা গেছে সকাল থেকেই। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থায় কর্মীদের অফিসের উদ্দেশে নিতে দেখা গেছে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থা না থাকায় রিকশা বা সিএনজিতে করেও কর্মস্থলে যাচ্ছেন কেউ কেউ।

অন্যদিকে, ঢাকার সাভারে লকডাউনের ছিটেফোঁটারও দেখা মেলেনি। সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের প্রথম দিনে সোমবার সকালে অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের মতোই মানুষের ভিড় দেখা গেছে সাভারের রাস্তাঘাটে।

কলকারখানা খোলা থাকায় শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় লকডাউনের প্রভাব তেমন একটা পড়েনি বললেই চলে। সোমবার সকাল থেকেই গাদাগাদি করে বাসে উঠেছেন শিল্প কারখানার শ্রমিকেরা। সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের আধিক্য থাকলেও গণপরিবহণ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিপাকে পড়েছেন কর্মস্থলমুখী অসংখ্য যাত্রী।

পোশাকশ্রমিকদের অনেকে পায়ে হেঁটে, অনেকে রিকশাভ্যান কিংবা অটোরিকশায় গাদাগাদি করে বসে রওনা হয়েছেন কর্মস্থলের উদ্দেশে।

লকডাউন কার্যকরে যেমন প্রশাসনের কোনো বিশেষ উদ্যোগ চোখে পড়েনি, তেমনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও বালাই ছিল না কোথাও।

যানবাহন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পোশাকশ্রমিকদের অনেকেই। সারা দেশ লকডাউন রেখে শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলে কল কারখানা খোলা রেখে লকডাউন কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। শ্রমিকেরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।

সাভার বাসস্ট্যান্ডে পোশাকশ্রমিক রফিকুল হোসেন বলেন, ‘যানবাহন না পেয়ে আমরা গাদাগাদি করে যাচ্ছি। বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। লকডাউন আমাদের ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

এদিকে, সাভারেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে করোনায় আক্রান্তদের সংখ্যা। স্থানীয় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে করোনা ওয়ার্ডে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। এমনকি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যার জন্য হাহাকার করতে দেখা গেছে রোগীর স্বজনদের।

গত ২৪ ঘণ্টায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন।

এদিকে, লকডাউনকে কেন্দ্র করে ঢাকা ছাড়ার জন্য গতকাল রোববার বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে মানুষের হিড়িক পড়ে যায়। ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে বিভিন্ন সড়কে দেখা যায় তীব্র যানজট। কমলাপুর ও এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মনে হচ্ছিল, অনেকে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাচ্ছেন। তবে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি।

গাবতলী বাস টার্মিনালেও অসংখ্য মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই যাত্রীদের বাসে চড়তে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, বেশি সংখ্যক যাত্রী নেওয়ার পরও বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বেশি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে।

সদরঘাটের লঞ্চঘাটেও দেখা গেছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ বাতাস ও বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে লঞ্চে চেপে বসেন। অনেককে সিট না পেয়ে ফিরে যেতেও দেখা গেছে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আজ সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে গতকাল রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে লকডাউনের মধ্যে সারা দেশে গণপরিবহণ বন্ধ, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, কাঁচাবাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করে ১১টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনাগুলো জানানো হয়।