শাহজাহান রিজেন্সি মুভি রিভিউ

বিনোদন | অনলাইন ডেস্ক

57
Print Friendly, PDF & Email

শাহজাহান রিজেন্সি

অভিনেতা: মমতাশঙ্কর, অঞ্জন, আবির, পরমব্রত, স্বস্তিকা, ঋতুপর্ণা, অনির্বাণ, রুদ্রনীল, কাঞ্চন, সুজয়প্রসাদ, ঋত্বিকা

পরিচালক: সৃজিত মুখোপাধ্যায়

ছবির ধরন: Drama

দুঃখী সম্রাট, শাহজাহান

একদিকে টালিগঞ্জে এই মুহূর্তে সেরা তিন অভিনেত্রী, অন্যদিকে টালিগঞ্জের এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা তিন অভিনেতা- তাঁদের মধ্যে অভিনয়ের টক্কর কেমন জমল, সেটাই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠবে সৃজিত মুখুজ্জের ‘শাহজাহান রিজেন্সি’র প্রধান ‘টকিং পয়েন্ট’। আর দ্বিতীয় ‘টকিং পয়েন্ট’ অবশ্যই বাঙালির প্রিয় ক্ল্যাসিক উপন্যাস ‘চৌরঙ্গী’ কতটা সৎভাবে অনুদিত হল এই অ্যাডাপটেশনে। 

দ্বিতীয় ‘টকিং পয়েন্ট’টা আগে আলোচনা করি। সৃজিত বড় বড় ঘটনাগুলোকে টু দ্য পয়েন্ট মেনে চলেছেন। সুতরাং ২০১৭-য় এসে প্রথমে যতই পরমব্রতর ভয়েস ওভারে বলানো হোক ‘চৌরঙ্গী’টা অনেকটাই তাঁর চরিত্র রুদ্রর জীবনের ঘটনাগুলোর মতো, সিনেমা যতই এগোয় বোঝা যায় রুদ্রর জীবন আসলে প্রায় পুরোটাই চৌরঙ্গী। কেবল হোটেলের আর চরিত্রগুলোর নাম আলাদা। সে কারণেই স্যাটা বোসের (ছবিতে সমীরণ) জীবনের ট্র্যাজেডিটা ট্র্যাজেডিই থেকে যায়, করবীর (এখানে কমলিনী) জীবনটা ছারখার হয়ে যায় ঠিক ‘চৌরঙ্গী’তে যেমন হয়। এখানেই আসল আর অ্যাডাপটেশন-এর মধ্যে যে সরু রেখাটি থাকে সেটা মুছে যায় যেন। এখানেই ১৯৬২ আর ২০১৭ (সিনেমায় সেটাকেই টাইমলাইন হিসেবে বলা হয়) এসে মিলে যায়। এখানেই সৃজিত যে ততটা সাহসী হতে পারলেন না, সেটাও প্রমাণিত হয়। নইলে আজকের সমীরণ বা কমলিনীদের জীবনটা তো অন্য রকমও হতে পারত বলে মনে হয়। 

এবার প্রথম টকিং পয়েন্ট। দু’জোড়া ত্রয়ীর মধ্যে টক্কর কেমন হল? পরমব্রত আর আবিরকে ‘২২ শ্রাবণ’-এর পর আবার একসঙ্গে আনলেন সৃজিত। পুরনো স্মৃতি ভুলে দুজনকেই সমান জায়গা দিলেন। এবং দুজনেই তার সম্পূর্ণ ফায়দা তুললেন। পরমব্রত অবশ্য সামান্য ভালো। সেটা প্রমাণিত হয় যতক্ষণ দুজনে জোড়ায় থাকেন পর্দায় তাঁদের কাঁধে ভর করে ছবিটা দিব্য বয়, কিন্তু যেখানে আবির একা, তখন একটু টানা মনে হয় বলে। অনির্বাণের অবশ্য তেমন কোনও দায় ছিল না, তিনি তাঁর নিজের কাজটা করে গিয়েছেন। বিশেষত ভালো লাগে সুইমিং পুলের কাছে স্বস্তিকার সঙ্গে কথোপকথনটা, যদিও সুইমিং পুলের ধারে কোনও মহিলা লিপস্টিক আর আইশ্যাডোতে সেজে আসেন কি না, তা ঠিক জানা নেই। তবে সত্যিকারের টক্করটা লাগে স্বস্তিকা আর মমতাশঙ্করের মধ্যে, যে দৃশ্যে মিসেস সরকার আর কমলিনী মুখোমুখি হয়। কী অসম্ভব নাটকীয়তায় সৃজিত চিত্রনাট্য লিখেছেন এই দৃশ্যের। এবং তারপরের অংশে স্বস্তিকার অভিনয়। কেয়াবাত। 

এই ত্রয়ীর মধ্যে বরং ঋতুপর্ণার তেমন কিছু করার ছিল না। যেমন ছিল না অঞ্জন দত্তেরও, কান্নাকাটি করা ছাড়া। বরং রুদ্রনীল বেশ অন্যরকম, কিন্তু তাঁরও ওই স্ক্রিন টাইমের অভাব। 

তা হলে শেষ হিসেবে ছবিটা কেমন? শেষের ঘণ্টা আধেক বাদে, ছবিটা টানটান।