মামুনুল হককে গ্রেফতারে সাংবাদিক সমাজের আল্টিমেটাম

124
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হরতালের সময় প্রেসক্লাবে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে অবিলম্বে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন জাতীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (২৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবাদিকদের আয়োজনে জাতীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এক বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে এ আল্টিমেন্টাম দেন সাংবাদিক নেতারা।

গত শনি ও রবিবার হেফাজতের ডাকা কর্মসূচী চলাকালে ধ্বংসস্তূপের শহরে পরিণত করা ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় হামলা, জ্বালাও-পোড়াও, তাণ্ডবলীলা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতনের বিচার ও প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে সাংবাদিক নেতা লায়েকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ-সমাবেশ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, আজমল হক হেলাল, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান জিহাদ, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামানসহ ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিট এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠিত সমাবেশে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে ব্যাপক ভাঙচুর, তাণ্ডবলীলা ও অগ্নিসংযোগের দায়ে অবিলম্বে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করার আল্টিমেটাম দেন জাতীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, ধ্বংসস্তূপের শহরে এখন পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। হেফাজতে ইসলামের আহ্বানে বিক্ষোভ, হরতালে চালানো তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড বিভিন্ন স্থাপনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একাধিক প্রতিকৃতি ভাঙচুরসহ সরকারি বেসরকারি অন্তত অর্ধশত স্থাপনা ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এ কারণেই হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করার আল্টিমেটাম দিয়েছে জাতীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

হেফাজতের তাণ্ডবে পুড়ে গেছে রেলস্টেশেনের সার্ভার রুম। এ কারণে দেখানে থামছে না ট্রেন। রেলস্টেশনের সার্ভার রুমে আগুন দেয়ার পাশাপাশি উপড়ে ফেলা হয় রেলের স্লিপারও। টিকিট বিক্রিও বন্ধ। এছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসসহ বেশ কয়েকটি সরকারি অফিস অনেকটাই পরিত্যক্ত।

হামলার ঘটনায় এখনও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের। ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

অন্যদিকে, গত শনিবার (২৭ মার্চ) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে হেফাজতে ইসলাম। কর্মসূচি থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, আগামীকালের (রোববার ২৮ মার্চ) হরতাল কর্মসূচিসহ তাদের কর্মসূচিতে যেখানেই বাধা দেয়া হবে, সেখানেই প্রতিহত করা হবে।

কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, রোববারের হরতালে বাধা দেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। রাজধানীর উত্তরাতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন হেফাজত নেতাকর্মীরা। উত্তরা পলওয়েল মার্কেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় হেফাজতের ডাকা হরতালকে সফল করতে নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার আহ্বান জানানো হয় বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে।