গড়াই নদীতে তৃতীয় দফা খনন: বেড়েছে পানির প্রবাহ কমছে লবণাক্ততা

18
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া:
প্রথম দুই দফা খননে সুফল না আসলেও তৃতীয় ধাপের খননে প্রাণ ফিরেছে দেশের উপকূল ভাগে মিঠা পানির অন্যতম আধার গড়াই নদীতে। খনন প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনার পর শুষ্ক মৌসুমে গড়াইয়ে পানি প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে। এতে দেশের উপকূলভাগ তথা সুন্দরবন এলাকায় মিঠা পানির সরবরাহ বেড়েছে। কমেছে লবণাক্ততা।

পাশাপাশি খুশী নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ।

সুন্দরবনসহ দেশের উপকূলভাগে মিঠা পানির অন্যতম আধার পদ্মার প্রধান শাখা নদী কুষ্টিয়া থেকে উৎপত্তি হওয়া গড়াই। এক সময় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গড়াই নদীর উৎসমুখ বন্ধ হয়ে যেত। এতে সুন্দরবনসহ উপকূলভাগে মারাত্মক লবণাক্ততা দেখা দেয়। হুমকির মুখে পড়ে উপকূলভাগের জীব বৈচিত্র্য। এটা অনুধাবন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে ১৯৯৮ ও ২০০৯ সালে দুই দফায় গড়াই নদী খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে অপরিকল্পিত খননের ফলে কাক্সিক্ষত ফল আসেনি বিপুল অর্থ ব্যয়ে।

সে সময় এ প্রকল্পে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল। সরকারি এক প্রতিবেদনে এর সত্যতাও মেলে। পরে ২০১৮ সালে খনন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে ৬২৯.৪৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে পুনরায় গড়াই খনন শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছর।

এ প্রকল্পের আওতায় মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়ায় নদীর উৎসমুখ থেকে ভাটিতে কুমারখালী উপজেলা পর্যন্ত ২০.৫০ কিলোমিটার এলাকায় খনন করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ড্রেজার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভেড়ামারা) তাজমির হোসেন জানান, আগের দু’দফায় মাত্র ৪০ মিটার প্রশস্ত করে নদী খনন করা হয়। এ কারণে পদ্মা থেকে খুব বেশি পানি গড়াইয়ে ঢুকত না। এ কারণে বর্তমান প্রকল্পের আওতায় খনন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে গড়াইয়ের উৎস মুখে ৩৫০ মিটার এবং বাকি অংশে ১২০ মিটার প্রশস্ততা ধরে খনন কাজ চালানো হচ্ছে। এতে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে।

গড়াইয়ে অন্য যেকোনো শুষ্ক মৌসুমের তুলনায় পানি প্রবাহ বেশি রয়েছে। এই প্রকৌশলী বলেন, গড়াইয়ে পানি প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নদীর উপকূল ভাগে লবণাক্ততা কমতে শুরু করেছে। সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টে লবণাক্ততার পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

তাজমির হোসেন বলেন, এবারের প্রকল্পের আওতায় কেবল নদী খননই নয়। নদীর তীর সংরক্ষণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খনন থেকে পাওয়া বালু দুই তীর সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর থেকে পাওয়া ভূমিতে বনায়ন করা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে এ নদী পুনরুদ্ধারের লক্ষে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। এ প্রকল্পে কাক্সিক্ষত ফল না আসায় বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ৯৪২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষে শুষ্ক মৌসুমে গড়াই আবার নাব্যতা হারায়। সম্প্রতি গড়াই নদী খনন কাজ পরিদর্শনে এসে সন্তোষ প্রকাশ করে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।