বাংলাদেশে শনাক্ত হলো যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনার নতুন ধরন

26
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
করোনা ভাইরাসের যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন ধরন ‘এন৫০১ওয়াই’। এই ভাইরাসটির অস্তিত্ব বাংলাদেশেও পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজন এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত তা জানা যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, জানুয়ারির শুরুতে পাঁচ-ছয়জন নতুন এই ধরনে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম আজ বুধবার গগণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কতজনের শরীরে এন৫০১ওয়াই-এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তা আমরা জানার চেষ্টা করছি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন এন৫০১ওয়াই’র সঙ্গে বাংলাদেশে কয়েকজনের করোনার নমুনায় মিল পাওয়া গেছে। ৫ জানুয়ারি এই নতুন ধরন প্রথম শনাক্ত হয়। নতুন ধরন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে আমাদের। এখনই আমাদের সচেতনতার সঙ্গে নতুন এই ধরন মোকাবিলা করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, ‘প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এখন পর্যন্ত নতুন এই ধরনের দেখা মিলেছে ঢাকা ও সিলেটে। এর বাইরে কোথাও পাওয়া গেছে কি না তা জানতে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমরা এরই মধ্যে বিস্তারিত জানতে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ শুরু করেছি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮৩টি দেশে করোনার নতুন এই স্ট্রেইনের সংক্রমণ হয়েছে। নতুন এই স্ট্রেইন আগের স্ট্রেইনের চেয়ে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি সংক্রামক হতে পারে।

এখন এ থেকে নিষ্কৃতির উপায় কী, এমন প্রশ্নে ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘আপাতত যারা যুক্তরাজ্য থেকে ফিরছেন তাদেরকে আমরা কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করছি। নতুবা যা শুনছি তাতে মনে হচ্ছে ভাইরাসটি দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে। তেমন যদি হয় তাহলে খুব সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি সমাধানের পথে এগোতে হবে আমাদের।’

নতুন এই ধরনের কারণে সংক্রমণ হঠাৎ করে বাড়ছে কি না- এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এন৫০১ওয়াই-এর কারণে সংক্রমণ বাড়ছে কি না তা এখনি বলা মুশকিল। তবে আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। নতুন ধরন নিয়ে আমরা শঙ্কিত। শঙ্কার স্থান থেকে পুরোদমে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখন আমাদের সবারই উচিত শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং বাইরে বের হলেই মাস্ক পরিধান করা। আপাতত এগুলো আমাদের নিজ উদ্যোগেই মেনে চলতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে।’