আত্মপলব্ধি-৪

24
Print Friendly, PDF & Email

কাজী আব্দুল হান্নান, ফেসবুক থেকে:
১৯৭৮ সাল থেকে সাংবাদিকতা করি। তখনও দেখেছি সাংবাদিকদের কেউই পছন্দ করে না। সামনে সমীহ দেখায়, নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য তোয়াজ করে। অন্য সময়ে এড়িয়ে চলে।
এখনও তাই।

সময়ের সাথে পরিবর্তন যা এসেছে সেটা হলো, আগে সাংবাদিকেরা প্রাপ্ত সমীহকে সম্মানে রূপ দিয়ে নিজের ইমেজ বাড়ানোর চেষ্টা করতেন।সমাজ তথা লোকলজ্জা থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য সতর্ক থাকতে যথাসাধ্য চেষ্টা করতেন।

এখন সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি, সমালোচনা, আত্মমর্যাদাকে থোড়াই কেয়ার করে অধিকাংশ সাংবাদিক।

এ জন্য সাংবাদিকেরা আগে বেতনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলার প্রতি সতর্ক থাকতেন। প্রতিষ্ঠানও আয়ের চেয়ে অধিক সম্পদ অর্জনকারী সাংবাদিকের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার প্রশ্নেই সচেতন থাকতো। যে কারনে অবৈধ আয়কে সতর্কতার সাথে গোপন রাখার প্রয়াস ছিল।

এখন সাংবাদিকতা পেশাকে অধিকাংশ সাংবাদিক জীবিকার জন্য একটি চাকরি হিসেবে গণ্য করে। তাই পেশার মর্যাদা তাদের কাছে মূল্যহীন।

এই মানসিকতা তাদের আয়ের চেয়ে অধিক অর্জন প্রকাশে বেপরোয়া এবং নির্লজ্জ করে তুলেছে। যা নিয়ে সামাজিকভাবে হেয় বা আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য তারা সবধরনের ক্ষমতার পদলেহী হয়ে পড়ছে। এর ধিক্কার থেকে মুক্তির পথ হিসেবে অহেতুক দাপট দেখাতে গিয়ে দাম্ভিক হয়ে উঠেছে।

এসবের নিট প্রাপ্তি হচ্ছে- ব্যক্তি বিশেষ নয়, অধিকাংশের এই মনোবৃত্তির জন্য পেশাটিকেই মানুষ এখন ঘৃণা করে।

লেখক: আইন-আদালত বিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিক।