কক্সবাজারে বাড়িতে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাই, এসআইসহ তিন পুলিশ গ্রেপ্তার

20
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
কক্সবাজারে বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাই করার অভিযোগে একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেছেন, একজন উপ-পরিদর্শক ও দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।

গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

কক্সবাজার থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার বিকালে কক্সবাজার পৌরসভার মধ্যম কুতুবদিয়াপাড়ার একজন বাসিন্দা রোজিনা খাতুনের তিন লাখ টাকা ছিনতাই হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি সাদা পোশাকে একটি সিএনজি নিয়ে এসে ঘরে ঢুকে পিস্তল দেখিয়ে ওই টাকা ছিনতাই করেন।

সেই সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় একজন পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে কক্সবাজার পুলিশকে জানান। পরবর্তীতে রাতে ঘটনার সাথে জড়িত আরও দুইজন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরা সবাই কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলছেন, ”এই ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। সেই মামলায় তিনজন পুলিশ সদস্যকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”

”অপরাধী যেই হোক, আইনের চোখে সমান। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি,” তিনি বলছেন।

গত বছর মেরিন ড্রাইভ রোডে পুলিশের গুলিতে একজন সাবেক সেনা মেজর নিহত হওয়ার পর কক্সবাজার পুলিশে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।

জেলার সকল পুলিশ সদস্যকে তখন বদলি করে নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছিল।

সাদা পোশাকধারী পুলিশের ছিনতাইয়ের শিকার রোজিনা খাতুনের স্বামী রিয়াজ আহমেদ জানান, কক্সবাজারের সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে গ্যাসের দোকান করার জন্য আমার স্ত্রী এই টাকাগুলো তার আত্মীয়-স্বজন থেকে সংগ্রহ করেন। সোমবার সিএনজি করে সাদা পোশাকধারী ৫/৬ জনের একটি দল বাসায় ঢুকে তাকে মারধর করে পিস্তল ঠেকিয়ে টাকাগুলো ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ট্রিপল নাইনে ফোন করে বিষয়টি সদর থানা পুলিশকে জানানো হয় এবং ঘটনাস্থলে আটককৃত একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পাশাপাশি গুরুতর অবস্থায় আমার স্ত্রীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।