৪ গ্রুপে ভাগ হয়ে লন্ডনে চলছে তারেক শিষ্যদের ঘৃণ্য অপতৎপরতা!

80
Print Friendly, PDF & Email

স্পেশাল করেসপন্ডেন্টঃ
একটি গ্রুপের কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরে গেলেই তার গাড়ির বহরের পেছনের দিকে অহেতুক ডিম-টমেটো ছুঁড়ে মারা। আরেকটি গ্রুপ রয়েছে যারা ফেসবুক-টুইটার, ব্লগসহ সামাজিক মাধ্যমে অশ্লীল বিদ্বেষ ছড়ায়। আরেকটি গ্রুপ সহিংস। এরা আওয়ামী লীগের কোনও নেতা কিংবা ওই ঘরানার কেউ লন্ডন গেলেই তাদের ওপর চড়াও হয়, সরাসরি হামলা চালায়। অপর একটি গ্রুপ রয়েছে যারা এইসব অপকর্ম পরিচালনায় যে অর্থ খরচ হয় তা যোগান দেয়। আর সবকিছুর ‘নাটের গুরু’ হয়ে কাজ করছেন খোদ তারেক রহমান। লন্ডনসহ গোটা যুক্তরাজ্যে বিএনপির কাজগুলো এভাবেই ধরা পড়েছে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের কাছে।

বিদেশে বিএনপির কার্যকলাপ তদন্তে এই কাজ শুরু করেছে সরকারের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের একটি দল। যেখানে তালিকার শীর্ষে আছে ইউকে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এরই মধ্যে অনেককেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। কে কোথায় কিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে কী করছে তাও গোয়েন্দাদের কাছে জানা।

লন্ডনে দায়িত্বশীলদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এখানকার বিএনপি চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমুলক পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মূল হোতা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এই চার গ্রুপের মধ্যে কোর গ্রুপ হয়ে কাজ করছে একটি গ্রুপ। যাদের কাজ হচ্ছে তারেক রহমানের এইসব অপতৎপরতায় অর্থ যোগান দেওয়া। কেবল যুক্তরাজ্যেই নয় বাংলাদেশের ভেতরেও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে সেখান থেকে তারা বাংলাদেশে দলীয় নেতাদের অর্থ যোগান দিয়ে যাচ্ছে, এমন খবরই রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

দ্বিতীয় গ্রুপটি নিয়মিতভাবে ফেসবুক, সংবাদ পত্র, ব্লগিং, ইউটিউব, টুইটার ও তুলনামুলক স্বস্তা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য, বদনাম, অপবাদ ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে ব্লগার হিসেবে যারা কাজ করছে তারা দেশের গণতন্ত্র ও জিডিপি উন্নয়নকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রচার করেছেন। প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তাদের বিষোদগার চলে। এমনকি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন তৈরীতেও এরা পিছপা হয় না। যা দেশের আইসিটি আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তৃতীয় গ্রুপটির কাজই হল প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে অহেতুক বিক্ষোভ দেখানো। বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখনই লন্ডন সফর করেন তখন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বিএনপি সমর্থক প্রবাসী বাংলাদেশিরা সমবেত হয়ে আক্রমনাত্মক শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সেসময় তাদের হাতে থাকে ঝাঁড়ু, স্যান্ডেল ও ব্রাশ। এখানে ওখানে সড়কের ওপর ডিম-টমেটো-কলা ছুঁড়ে মারার ঘটনাও ঘটে।

চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুবার যুক্তরাজ্য সফরকালে তার হোটেলের সামনে এভাবেই দুষ্কৃতিকারীরা বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায়। এমনকি ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যাওয়ার পথেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বিএনপিপন্থীরা।

চতুর্থ দলটি গঠিত যুবদল ও সাবেক ছাত্র নেতাদের সমন্বয়ে। যারা সরকারের মন্ত্রী ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের যুক্তরাজ্য সফরকালে হামলার সঙ্গে জড়িত। এমন আচরণের শিকার হয়েছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, ৭১ টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা রুপাসহ আরও কয়েকজন।

চতূর্থ এই গ্রুপটির সকল হামলায় লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা তারেক রহমানের সরাসরি মদদ ছিলো বলে নিশ্চিত হয়েছেন সেখানে অবস্থানকারী বিশেষ শাখার গোয়েন্দারা।

তারা জেনেছেন, তারেক রহমানের আবাসস্থল কিংস্টন লজ থেকেই কর্মীদের এসব ঘৃণ্য অপকর্মকান্ডের নির্দেশ দেন বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন।

যারা তারেক রহমানের সাথে এসব কাজে সরাসরি জড়িত তাদের একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। এরা হলেন, বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এ মালিক, সম্পাদক কায়সার এম আহমেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক মোহিদুর রহমান, হুমায়ুন কবির, সহকারি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, ব্যারিস্টার আবু সায়েম, সালেহ শিবলি, দেওয়ান নেওয়াজ, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রেসিডেন্ট নাসির আহমেদ শাহিন, সম্পাদক আবুল হোসেন, সদস্য হাবিুবুর রহমান, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, লন্ডন মহিলা দলের সভপতি অঞ্জনা আলম, সদস্য মোসাম্মত জান্নাতুল মাওয়া, ডালিয়া বিনতে লাকুরিয়া, যুবদল সভপতি রহিম উদ্দিন, সাবেক ছাত্র নেতা শফিকুল রিবলু, গোলাম জাকারিয়া, শাহরিয়ার নাফিস খান, মো: মাসুদ রানা, সোহেল শরীফ এম করিম, মো: মাহবুবুর রহমান, শাহনেওয়াজ জুয়েল, সরফরাজ শরফু, মাহফুজুর রহমান এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মেহেরুন নেসা।

বিষয়টি নিয়ে দেশেও তৎপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশে ফিরলেই এদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে জানায় দায়িত্বশীল সূত্র। এরমধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইউকে বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মামুন এবং লন্ডন মহানগর যুবদল সভাপতি খয়ের মিয়াকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সূত্র। লন্ডন ফেরৎ ব্যারিস্টার মিলহানুর রহমান নওমিকেও গত বছর গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসব কারণেই যুক্তরাজ্যে সক্রিয় এইসব নেতার অনেকেই গ্রেপ্তারের ভয়ে গত ৫/৬ বছর যাবত দেশেই যান না বলেও জানায় সূত্রটি।