ছাগল চুরির মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ সহসভাপতি তুহিন দর্জি বহিষ্কার

7
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, মাদারীপুর:
মাদারীপুরে প্রাইভেটকারে করে ছাগল চুরির মামলায় গ্রেপ্তার জেলা ছাত্রলীগের সেই সহ-সভাপতি তুহিন দর্জিকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গতকাল বুধবার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেইন অনিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তুহিন দর্জি শহরের ইটেরপুল এলাকার বাসিন্দা জেলা ইমারত শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও ঘটমাঝি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জাকির দর্জির ছেলে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তুহিন দর্জি পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার রাস্তা থেকে একটি ছাগল চুরি করে প্রাইভেটকারে নিয়ে পালাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করে। পথে শিবচর থেকে একটি পুলিশের ভ্যান রাস্তা দিয়ে মাদারীপুরে যাচ্ছিল। পুলিশের গাড়িটি প্রাইভেটকারটিকে সামনে থেকে আটকে ফেলে। এরপর গাড়ির মধ্য থেকে একটি ছাগলসহ ছাত্রলীগের নেতা তুহিন দর্জি ও তাঁর চার সহযোগী জুবায়ের হাওলাদার, রানা বেপারী, রবিউল ইসলাম ও মাহবুব তালুকদারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। চুরির কাজে ব্যবহৃত ওই প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে মামলা হওয়ার একদিন পর তুহিনসহ পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দিপংক রোয়াজা বলেন, ‘মঙ্গলবার এই ছাগল চুরির মামলার শুনানি ছিল। আসামি তুহিন দর্জিকে আদালতে হাজির করা হলে আমরা পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করি। কারণ মামলার বাদী এজাহারে আরো পাঁচটি গৃহপালিত ছাগল একই কায়দায় চুরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এই ছাগল চোরচক্রের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কি না, সেই বিষয়টি তদন্ত করতেই আমরা আসামি তুহিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাই। কিন্তু আদালতে আসামিপক্ষের লোকজন মামলার বাদীকে হাজির করে। সেখানে বাদী আসামির জামিন দেওয়া হলে তার আপত্তি নেই বলে আদালতকে জানান। এ কারণে আদালত রিমান্ডের আবেদন বাতিল করে আসামিকে জেলহাজতে বসেই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। তবে আদালত আসামিপক্ষের জামিন আবেদন খারিজ করে পুনরায় শুনানিন দিন ঠিক করেন।

এসআই দিপংক রোয়াজা আরো বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা তুহিন দর্জির নামে সদর থানায় মাদক, বিস্ফোরকসহ আরো সাতটি মামলা আছে। বর্তমানে আসামি তুহিনসহ তার সহযোগীরা কারাগারে আছে। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের অন্যদের খুঁজে বের করা হবে।’

জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেইন অনিক বলেন, ‘ছাগল চুরির ঘটনাটি সারা দেশে সমালোচিত হয়েছে। ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তুহিন গ্রেপ্তার হওয়ার দিনই আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে তার বহিষ্কার চেয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছি। চিঠি পাঠানোর ছয় দিন পর মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত ছাত্রলীগের একটি প্যাডে তুহিনকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।’