ভাষা আন্দোলনের গল্প নিয়ে আসছে ‘মুজিব’ ৮

63
Print Friendly, PDF & Email

লিটারেচার ডেস্কঃ
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হচ্ছে গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ এর অষ্টম খণ্ড, যেখানে বাঙালির ভাষা আন্দোলন আর তাতে জাতির জনকের ভূমিকা প্রাধান্য পাবে।

রোববার সন্ধ্যায় এক ওয়েবিনারে গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’-এর অষ্টম পর্বের মোড়ক উন্মোচন করা হবে বলে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশের পর শিশু-কিশোর ও তরুণদের কাছে তার ঘটনাবহুল জীবন নতুন রূপে তুলে ধরার জন্য বইটিকে গ্রাফিক নভেলের রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে গ্রাফিক নভেল হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এটাই প্রথম। ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ গ্রাফিক নভেল মুজিবের প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে সিআরআইয়ের উদ্যোগে এর বিভিন্ন পর্ব প্রকাশিত হয়ে আসছে।

সিআরআই জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৭টায় সিআরআই ও ইয়াং বাংলার ফেসবুক পেইজে ওয়েবিনার শুরু হবে। কথা সাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, লেখক ও ‘সার্ভাইভিং৭১’-এর পরিচালক ওয়াহিদ ইবনে রেজা, গ্রাফিক নভেল মুজিবের কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময় এবং সংগীতশিল্পী কারিশমা সানু সভ্যতা মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। সঞ্চালনা করবেন শিবু কুমার শীল।

অষ্টম পর্বের শুরুতে দেখা যাবে ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য উত্থাপিত বিলটি পাকিস্তানের সংবিধান সভায় বাতিল করা হয়েছে।

ওই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেন। তমুদ্দিন মজলিশের সাথে মিলে গঠন করেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে ১১ মার্চ ভাষার দাবিতে পাকিস্তানে প্রথম হরতাল হয়। সেই হরতালের নেতৃত্ব দেন শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহনেতারা।

১৯৪৮ সালে এভাবেই সাধারণ জনগণের মাঝে বপিত হয় ভাষা আন্দোলনের বীজ। দেশ ভাগ, মহাত্মা গান্ধীর সাথে বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎ, ভাষার জন্য আন্দোলন এবং তার কারাবরণের মত ঘটনাগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’-এর অষ্টম পর্ব।

এর আগে প্রথম পর্বে খেলাধুলা, পড়াশোনা, ডাক্তারের কাছ থেকে পালানো, প্রথমবারের মতো কারাবরণের মত বিভিন্ন কৌতূহলোদ্দীপক কাজের পাশাপাশি দেশের প্রতি তরুণ বয়স থেকেই নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে দেখা যায় কিশোর শেখ মুজিবকে।

দ্বিতীয় পর্বে রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর হাতেখড়ির পাশাপাশি তার প্রেরণা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়টি জানা যায়। তৃতীয় পর্বে বঙ্গবন্ধুর স্কুল ও কলেজ জীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্ভিক্ষের সময় মানবিক ভূমিকার বিষয়গুলো উঠে আসে।

‘মুজিব’-এর চতুর্থ পর্বে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ সম্মেলন শেষে তরুণ শেখ মুজিবের দিল্লির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ ও ১৯৪৪ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনে তার ভূমিকা চিত্রায়িত হয়েছে।

অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও ১৯৪৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে কীভাবে ছাত্রলীগের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কালোবাজারি এবং দেশের কিছু এমএলএ ও খান বাহাদুরদের স্বার্থের টানাপড়েনের কারণে ব্রিটিশ গভর্নরের কাছে ক্ষমতা চলে যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করা হয় পঞ্চম পর্বে।

খাজা নাজিমুদ্দিনের নানা কূটকৌশলের বিপরীতে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান নিয়ে প্রকাশিত হয় গ্রাফিক নভেল মুজিবের ষষ্ঠ পর্ব। মূলত, গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার অতি সাধারণ এক পরিবারে জন্ম নেওয়া এক কিশোর, কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে ধীরে ধীরে কীভাবে এই বাংলার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারক হয়ে উঠলেন– সেই গল্প দৃশ্যমান হয় এ পর্বে। আর সপ্তম খণ্ডে উঠে আসে তৎকালীন দুর্ভিক্ষের চিত্র।

বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও জাপানি ভাষাতেও পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হচ্ছে গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’।