সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আইএসপিআর

56
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় “অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স ম্যান” শিরোনামে প্রচারিত ও প্রকাশিত প্রতিবেদনটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে আইএসপিআরের পরিচালকের পক্ষ থেকে সহকারী পরিচালক রাশিদুল আলম খান স্বাক্ষরিত পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনটির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবাদ পত্রে। এছাড়া প্রতিবেদনে দেখানো আরো নানা বিষয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইএসপিআর।

এর আগে আল জাজিরার প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে সকালে বিবৃতি দেয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।

গতকাল সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রচার করে আল জাজিরা। এরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার করা “অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন” শিরোনামে একটি মিথ্যা ও মানহানিকর প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত হয়েছে।

প্রতিবেদনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর সিরিজ ছাড়া আর কিছুই নয়, যা মূলত উগ্রবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কুখ্যাত ব্যক্তিদের যোগসাজশে তৈরি রাজনৈতিক অপপ্রচার। সংগঠনটি (জামায়াতে ইসলামী) ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরোধিতা করে আসছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরো বলা হয়, প্রতিবেদনটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার কথা উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে লাখ লাখ বাঙালিকে হত্যা ও দুই লাখ নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জামায়াত অপরাধীর ভূমিকায় ছিল। প্রতিবেদনটি আল জাজিরার রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক প্রচারণার প্রতিচ্ছবি। এছাড়া প্রতিবেদনটির প্রধান ভাষ্যকার ছিলেন ডেভিড বার্গম্যান, যাকে মুক্তিযুদ্ধে সরকারি হিসাব মতে মৃত্যুর সংখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এটি লক্ষ্যণীয়, আল জাজিরার করা অভিযোগের মূল ‘উৎস’ একজন আন্তর্জাতিক অপরাধী, যাকে আল জাজিরার পক্ষ থেকেই ‘মানসিক রোগী’ বলে দাবি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ওই ব্যক্তির যোগসাজশের কোনো প্রমাণও নেই। মানসিকভাবে অপ্রকৃতস্থ কোনো ব্যক্তির কথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পক্ষে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বলে মনে করে মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এছাড়া এতে অবাক হওয়ারও কিছু নেই যে, জামায়াতে ইসলামীর পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু পলাতক আসামি ও নিন্দিত ব্যক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারের সঙ্গে প্রতিবেদনটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী দল ও সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে আল জাজিরার সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, উগ্রপন্থি ও তাদের মিত্র—যারা লন্ডন ও অন্য জায়গায় তৎপর, তাদের মাধ্যমে প্ররোচিত এই অপপ্রচার প্রত্যাখ্যান করছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রমাণ রয়েছে।

আফসোস এই যে, আল জাজিরা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচারকারীদের ‘দূষিত রাজনৈতিক নকশার উপকরণ’ হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।